অভিমানে দুবাইবাসী হতে চান হুমায়ুন, মসজিদ নির্মাণ শেষেই রাজ্য ছাড়ার ঘোষণা
ভোটের লড়াইয়ে হার-জিতের হিসাবের আগেই রাজনীতি থেকে কি মন উঠে গেল হুমায়ুন কবীরের!
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর উপনির্বাচনে পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে এবার রাজ্য ছেড়ে দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন নওদার বিধায়ক।
তাঁর ঘোষণা, নির্মীয়মাণ মসজিদের কাজ শেষ করেই এ রাজ্য ছাড়বেন তিনি। আপাতত তিনি দায়বদ্ধ নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে। এর পরে বাকি জীবন শান্তিতে কাটাতে চান দুবাইয়ে। ভোটের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে হুমায়ুনের এই ঘোষণা নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
রেজিনগর উপনির্বাচনে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিলেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত ভাবে ভোট লুট করা হয়েছে। তাঁর নিশানায় ছিলেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার এবং বেলডাঙা, রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ আধিকারিকেরা।
হুমায়ুনের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেছে বেছে দক্ষ পুলিশ আধিকারিকদের এনে ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে আঙুলে কালি লাগিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রেজিনগরের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার মানসিকতাও হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
শুধু ভোট লুটের অভিযোগ নয়, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, গত দু’মাসে তাঁদের ৬৪ জন কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন, ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর। পুরনো ঘটনার মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এই সব ঘটনার জেরে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর কথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে আর পেরে উঠছেন না। চারপাশে অবিচার এবং মুনাফেকি দেখে রাজনীতির প্রতি তাঁর বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। এই হতাশার মধ্যেই মসজিদ নির্মাণের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন হুমায়ুন।
তাঁর বক্তব্য, নির্মীয়মাণ মসজিদের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের পাঠানো অনুদানের অর্থেই জমি কেনা থেকে নির্মাণের কাজ এগিয়েছে। সেই কাজ অসমাপ্ত রেখে সরে দাঁড়াতে চান না তিনি। মসজিদ নির্মাণ সম্পূর্ণ করাই আপাতত তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তার পরে রাজ্য ছেড়ে দুবাইয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার ইচ্ছা তাঁর।
রেজিনগরের ভোটকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের ক্ষোভ কতটা রাজনৈতিক প্রতিবাদ, আর কতটা দীর্ঘদিনের হতাশার বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই! তবে তাঁর এই ঘোষণায় স্পষ্ট, আপাতত রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের চেয়ে মসজিদ নির্মাণ শেষ করে ব্যক্তিগত জীবন নিজের মতো করে কাটাতে চাইছেন নওদার বিধায়ক।
শেষ পর্যন্ত তিনি সত্যিই দুবাইয়ে পাড়ি দেন, নাকি এই ঘোষণা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ক্ষোভেরই প্রতিফলন! এখন সেটাই দেখার।





