রাজ্যের খবর

‘ধর্ম যার যার’ নয়, ‘সনাতনেই শক্তি’! বদলের বাংলায় এবার পাল্টে গেল নৈহাটির ‘বড়মা’য়ের ফলকও

কালীপুজোর আগেই বড়মার মন্দিরে ঐতিহাসিক পরিবর্তন! উধাও ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ সর্বজনীন বার্তা

Truth of Bengal: কালীপুজোর প্রাক্কালে বাংলার অন্যতম বিখ্যাত ও জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থান নৈহাটির বড়মার (Naihati Boro Maa) মন্দির ঘিরে শোরগোল ফেলে দেওয়া এক বিরাট পরিবর্তন ঘটল। তবে এই বদল কোনও পূজাপদ্ধতি বা সময়ের নিয়মে নয়, একেবারে সরাসরি আঘাত হানল মন্দিরের নামফলকের চেনা লেখায়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত সর্বজনীন ভাবাবেগের বার্তা বদলে এবার সেখানে খোদাই করা হল নতুন সনাতনী স্লোগান। এই আকস্মিক পরিবর্তনে ইতিমধ্যেই নৈহাটি শহর জুড়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক চর্চা ও জল্পনা।

পালটে গেল নামফলকের ঐতিহাসিক লেখা

এতদিন পর্যন্ত বড়মার মন্দির চত্বরে বা নামফলকের নিচে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বার্তা খোদাই করা থাকত, ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মন্দিরের আগের কমিটি ভেঙে নতুন পরিচালনা কমিটি তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটির সমস্ত সদস্যের যৌথ আলোচনার পরই এই ঐতিহ্যবাহী স্লোগানটি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কমল কুমার ঘোষ এবং মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায়দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরের দেওয়ালে এই নতুন বার্তা উন্মোচিত হয়। নতুন ফলকে সাঁটানো হয়েছে, ‘বড়মায়ে ভক্তি, সনাতনে শক্তি।’ সর্বজনীন ভাবাবেগের পরিবর্তে হঠাৎ করে এই ধরনের প্রবল সনাতনী ভাবনার প্রকাশ ঘিরে সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নেপথ্যে কি রাজনৈতিক সমীকরণ?

বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বর্তমান বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই সনাতন হিন্দু ধর্মকে আরও জোরালোভাবে প্রচার ও প্রসার করার পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। সেই রাজনৈতিক ভাবধারারই প্রতিফলন ঘটেছে নৈহাটির ঐতিহাসিক বড়মা মন্দিরে। পুরনো সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পুরনো ফলকটি ঢেকে নতুন স্লোগানযুক্ত ফলকটি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বড়মা দর্শন নিয়ে বড় আপডেট

প্রতি বছরই কালীপুজোয় নৈহাটির বড়মার টানে লাখ লাখ ভক্তের ঢল নামে। তবে এবছর পুজো শুরুর আগেই ভক্তদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে মন্দির কমিটি। আগামী ৬ নভেম্বর থেকেই বড়মার মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মায়ের পূজাপদ্ধতিও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এবছর কালীপুজোয় ভক্তরা সরাসরি বড়মাকে ছুঁয়ে পুজো দিতে পারবেন না। মন্দির কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য বড়মার দর্শন ও পুজো দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Related Articles