স্ত্রী-সহ শ্বশুরবাড়ির ৬ জনকে খুন! ১২ বছর পর দোষীকে যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি দিল আদালত
Murder of 6 in-laws including wife! After 12 years, the court sentenced the culprit to life imprisonment
Truth of Bengal: স্ত্রী-সহ বাপের বাড়ির লোকজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার ১২ বছর পর মেদিনীপুর জেলা আদালত যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি দিল দোষীকে। দাসপুরের বাসিন্দা তাহের আলিকে বুধবার যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শ্যালিকাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল তাহের কিন্তু তাকে বাঁধা দেয় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তখনই তাহের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাহেরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে কেশপুর থানার পুলিশ। ২০১৪ সালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাহেরকে।
পুলিশ জানায়, স্ত্রীকে ছেড়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল তাহের। কিন্তু স্ত্রী ও তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন বাধা দেন। রাজি হননি শ্যালিকাও। কেশপুরের বাঘাগেড়িয়া গ্রামে গিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের গায়ে আগুন দেয় তাহের। সেই ঘটনায় তাহেরের তিন সন্তান-সহ পাঁচজন কোনও মতে বেঁচে যান।
২০০৩ সালে কেশপুর থানার বাঘাগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মিনারা বিবির সঙ্গে দাসপুর থানার বালিপোতা গ্রামের তাহেরের বিয়ে হয়। এরপর মিনারার উপর অত্যাচার শুরু করে তাহের। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে যান মিনারা। এরপই শালিকা তোতা খাতুনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহের। কিন্তু স্ত্রী, শ্যালিকা-সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাতে বাধা দেন। ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত। এর পর পেট্রোল ঢেলে লোকজনের গায়ে আগুন লাগিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রামবাসীরা অগ্নিদগ্ধ ১১ জনকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু সেখানে তাহেরের স্ত্রী-সহ ছয় জনের মৃত্যু হয়। বেঁচে যান তিন কন্য-সহ পাঁচ জন। এর পর তাহেরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তার খোঁজ শুরু করে কেশপুর থানার পুলিশ। ঠিক এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালে মেদিনীপুর স্টেশন চত্বর থেকে তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার তাহেরকে দোষী সাব্যস্ত করেন মেদিনীপুর জেলা আদালতের তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা বিচারক কুসুমিকা দে মিত্র। বুধবার তিনিই সাজা ঘোষণা করেন।






