বিহারে হলে বাংলায় কেন নয়? SIR ইস্যুতে ফ্যামিলি রেজিস্টার নিয়ে কটাক্ষ মমতার
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে একতরফা কাজ করছে।
Truth Of Bengal: ভোটার তালিকা সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, একই দেশে বিহারের ক্ষেত্রে যে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে, বাংলার ক্ষেত্রে তা কেন আলাদা হবে? মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ এবং ‘ক্যাপচার কমিশন’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে একতরফা কাজ করছে। তিনি বলেন, “বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে নথি বা ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ গ্রাহ্য করা হয়েছে, বাংলায় তা বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন? এটি সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা।” হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে ভোটার তালিকা নিয়ে ‘সর্বনাশী খেলা’ চলছে।

বাংলার খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রক্রিয়ার ভুলের কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কোন যুক্তিতে এবং কাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা কেন প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। দিল্লির ‘জমিদারদের’ নির্দেশে বাংলা রক্ষা করার এই লড়াইয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও ভারতে কমিশনের কারণেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে। কমিশনকে তাঁর সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা বা ‘লক্ষ্মণরেখা’ মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে।”

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।






