রাজ্যের খবর

Gangani Canyon: আমেরিকার অ্যারিজনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ছোট সংস্করণ ‘ক্যানিয়ন অফ শিলাবতী’

গনগনি সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের অনেক কাহিনী।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার কাছে শিলাবতী নদীর তীরে অবস্থিত গনগনি নামক স্থানটি ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে পরিচিত। এটি প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট ল্যাটেরাইট পাথরের দেওয়াল এবং শিলাবতী নদীর কারণে একটি আকর্ষণীয় স্থান। পশ্চিম মেদিনীপুরের গনগনিকে বলা হয় ‘ক্যানিয়ন অফ শিলাবতী’। আমেরিকার অ্যারিজনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ছোট সংস্করণ বলা যায় গনগনিকে। নদীর তীরে দুই পাশে ল্যাটেরাইট পাথরের নানান স্থাপত্য নজরে পড়বে। দুর্দান্ত সৌন্দর্য নিয়ে যেন গনগনি বলছে-কল্পলোকের নয়, আমি মর্ত্যের সুন্দরী (Gangani Canyon)।

গনগনি সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের অনেক কাহিনী। লোকমুখে এমন অনেক কথা শোনা যায় গনগনিকে নিয়ে মহাভারতের অনেক গল্প। যেমন প্রচলিত রয়েছে পান্ডবরা তাদের অজ্ঞাতবাসের সময় এই এলাকার বিভিন্ন গুহায় লুকিয়ে ছিলেন। শিলাবতী নদীর অপর পারে ভীখনগর একটি গ্রাম ছিল বলেও বিশ্বাস এলাকার মানুষের। পাণ্ডবপুত্র যুধিষ্ঠির এই নদীর তীরে এক ব্রাহ্মণকে বসে কাঁদতে দেখেছিলেন। তার কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলে ওই ব্রাহ্মণ বলেন যে বক রাক্ষসের কথা। বক রাক্ষস প্রতিদিন এই গ্রামের একজনকে ভক্ষণ করতো। সেদিন ছিল ওই ব্রাহ্মণের পালা। বক রাক্ষস তাকে ভক্ষণ করবে। সেই আতঙ্কেও ভয়ে নদীর ধারে বসে কাঁদছিলেন ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণের কাছ থেকে বক রাক্ষসের কথা শুনে যুধিষ্ঠির ভীম কে নির্দেশ দেন বক রাক্ষসকে বধ করার। দাদার নির্দেশে বক রাক্ষস কে বধ করতে যায় ভীম। বিশালকায় বক রাক্ষসের সঙ্গে ভীমের লড়াই হয়। সেই লড়াইয়ে আকাশ-পাতাল কেঁপে ওঠে (Gangani Canyon)।

আরও পড়ুন: Rain Alert: নিম্নচাপে ভাসছে বাংলা, হাঁটুজলে নাকাল শহরবাসী— রবিবার পর্যন্ত জারি থাকবে বৃষ্টি

তাদের এই যুদ্ধের সময়ই ক্ষতবিক্ষত হয় এখানকার ভূমি। এমন লোক কথা মুখে মুখে প্রচলিত এই এলাকায়। লোককথা, এখানে বকাসুরকে বধ করেছিলেন ভীম। তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ছুটে এসেছিলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। এ তো গেল মহাভারতের গল্প। গনগনির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক অনেক কাহিনী। চুয়াড় বিদ্রোহর সময় ভূমিজ নেতা অচল সিং এখানে দলবল নিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে ব্রিটিশ পুলিশ এখানে তাঁকে ফাঁসি দেয়। ইতিহাস থেকে জানা যায় চুয়াড় বিদ্রোহের সময় আন্দোলনের নেতা অচল সিং তার দলবল নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছিলেন গনগনিতে। গিরিলা পদ্ধতিতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। অচল সিং ও তার সহযোগীদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কার্যত দিশেহারা অবস্থা হয় ইংরেজদের। তাদের এই আন্দোলন দমন করতে পাল্টা কৌশল অবলম্বন করে ইংরেজরা। চুয়াড় বিদ্রোহীদের ওপর রাতের অন্ধকারে অতর্কিতে হামলা চালায় ইংরেজরা। কামান দাগে ইংরেজরা। সেই কামানের গোলায় ঘন শালবন ক্ষতবিক্ষত হয়। বহু নিরীহ গ্রামবাসী প্রাণ হারান। তবে অচল সিং ও তার দলবলকে ইংরেজরা বাগ আনতে পারেনি। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করেন রাজা ছত্র সিংহ(Gangani Canyon)।

ছত্র সিং তাদের গোপন তথ্য ইংরেজদের কাছে পৌঁছে দেয়। ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ে যান অচল সিং ও তার সহযোগীরা। ইংরেজদের গুলিতে প্রাণ দিতে হয় তাঁদের। এই গনগনি র সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের সেই ইতিহাস।
বেড়ানো মানেই যে বহু দূরে গিয়ে সবকিছু দেখতে জানতে হবে তার কোনো মানে নেই। যেমন চোখের আরাম, মনের খিদে থাকলে দেখে নিতে পারেন ছোট্ট অথচ শান্ত নিরিবিলি জায়গা পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপগড় ও গনগনি। একেবারে হাতের নাগালের মধ্যে রয়েছে এই জায়গা। মেদিনীপুরের শাল, পিয়াল, বকুল গাছের জড়াজড়ি খাওয়া জঙ্গল পেরিয়ে শান্ত নির্জন মেঠো পথ পেরিয়ে রঙবেরঙের ফুলের মেলা পেরিয়ে হারিয়ে যেতে হলে যেতে হবে গোপগড়ে (Gangani Canyon)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/

পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপগড় এক সময় ছিল গোপ রাজাদের রাজধানী। এখন ইকো পার্ক রয়েছে। খুব কাছ দিয়ে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী। আর আছে আরাবাড়ি জঙ্গল। যেখানে হাতি, বিভিন্ন রকমের প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখিদের দেখা মেলে। উপরি পাওনা খুব কাছেই গনগনির মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখা মেলে। সম্প্রতি জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ‘জিও হেরিটেজ’ স্বীকৃতি দিয়েছে গনগনিকে। এই তথ্য জানিয়ে গনগনিতে এরমধ্যেই বোর্ড লাগানো হয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গনগনিতে মাটির স্তম্ভ থেকেই বিশেষ কিছু গবেষণার বিষয় উঠে আসতে পারে ভবিষ্যতে। এই ধরনের মাটির স্তম্ভ সচরাচর দেখা মেলে না। তাই গনগনিকে তাঁরা বেছে নিয়ে তাঁদের গবেষণার কাজে লাগাতে চান (Gangani Canyon)।

গড়বেতা স্টেশনে নেমে টোটোয় চেপে লালমাটির আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় শিলাবতী নদীর তীরে। সূর্যাস্তর সময় দেড় কিমি এলাকা জুড়ে অদ্ভুত ভূমিরূপ প্রাকৃতিক স্থাপত্য মায়াবী সৌন্দর্য তৈরি করে। এছাড়াও দেখে নিতে পারেন প্রাচীন সর্বমঙ্গলা মন্দির, কৃষ্ণরাই মন্দির, বারো শিবের মন্দির। লালমাটির ঢেউ খেলানো প্রান্তর, কাজুবাদাম গাছের সারি, মাঝেমধ্যে শাল, পিয়ালের জটলার ফাঁক দিয়ে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত দেখা জীবনের সেরা প্রাপ্তি হতে পারে (Gangani Canyon)।

Related Articles