রাজ্যের খবর

উমা বিদায়ের পর কোন দেবীর আরাধনায় মাতে উত্তরবঙ্গ?

Durga Puja 2023

The Truth of Bengal, Mou Basu: বাংলার আকাশ বাতাস জুড়ে এখন বিষাদের সুর। উমা বিদায়ের পর্ব সাঙ্গ না হতে হতেই উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ প্রবল উৎসাহে মেতে ওঠে নতুন এক উৎসবে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার আর আলিপুরদুয়ারে একাদশীর দিন থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত হয় এই ভান্ডানী দেবীর পুজো। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার আর কোচবিহারের আদি বাসিন্দা রাজবংশী সমাজের দেবী ভান্ডানী দেবীর পুজো শতাব্দী প্রাচীন। তবে এখন রাজবংশী সমাজের একান্ত নিজস্ব এই পুজো উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। দেবী ভান্ডানী উত্তরবঙ্গের লৌকিক দেবী হলেও হয়ে উঠেছেন লোক সংস্কৃতির ধারক।

দেবী দুর্গারই আরেক লৌকিক রূপ হলেন ভান্ডানী দেবী। এলাকা ভেদে দেবী ভিন্ন নামে পূজিতা হন। কোথাও ভান্ডারনী, কোথাও ভান্ডানী, কোথাও বনদুর্গা, কোথাও বনদেবী, কোথাও আবার অঞ্চল ভেদে ডাংধারী মাও বা লাঠিধারী মা হিসাবেও পূজিতা হন। রাজবংশী ভাষায় লাঠিকে বলা হয় ডাং আর মাও হলেন মা। দেবী দুর্গার লৌকিক রূপ হলেও ভান্ডানী দেবী মহিষাসুরমর্দিনী নন। দেবীর রূপ একজন সাধারণ নারীর। দেবী এখানে চতুর্ভূজা, তাঁর ৪টি হাত। সিংহ নয় দেবীর বাহন বাঘ। কারণ, উত্তরবঙ্গের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে একসময় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করত। চতুর্ভূজা দেবী ভান্ডানীর সঙ্গে পূজিতা হন লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকও। তবে মনে করা হয়, মহিষাসুরকে বধ করে স্বর্গে ফেরার পথে রাজবংশী কৃষকদের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে দেবী মর্ত্যলোকে আরো কয়েক দিন থেকে যান। তাই মহিষাসুর থাকে না ভান্ডানী দেবীর সঙ্গে। ভান্ডানী দেবীকে অনেকে বনদুর্গাও বলেন।

কথিত আছে, দশমীতে বিসর্জনের পর দেবী দুর্গা উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল দিয়ে বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেন। গভীর রাতে জঙ্গলের মধ্যে থেকে নারীকণ্ঠে কান্নার আওয়াজ শুনে ছুটে আসে আশপাশের স্থানীয় মানুষ। নিজেদের গ্রামে আশ্রয় দেয় পথ হারিয়ে ফেলা গ্রাম্যবধূকে। গ্রামে রাত কাটিয়ে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফেরার আগে গ্রামবাসীদের কাছে নিজের প্রকৃত পরিচয় জানান। গ্রামবাসীদের আতিথ্যে সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও জানান দেবী। দেবী তাদের বলেন দশভূজা হিসাবে তিনি পুজো নিতে পারবেন না। দেবী তখন চতুর্ভূজা রূপে ভান্ডানী দেবীর রূপে আবির্ভূত হন।

মনে করা হয়, ভাণ্ডার অর্থাৎ শস্যের ভাণ্ডার থেকে এসেছে ভান্ডানী কথাটি।একসময় সমাজে বর্ণভেদ প্রথা প্রচলিত থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষত নিম্নবর্গীয়রা দুর্গাপুজোয় অংশ নিতে পারত না। তখন দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে হলে রাজাকে জানাতে হত। তিনি সম্মতি দিলেই দুর্গাপুজো শুরু করা যেত। রাজবংশী সম্প্রদায়ের কৃষকদের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়। দশমীর দিন ‘যাত্রা পুজো’ দিয়ে শুরু হয় পুজো। চাষাবাদ ভালো হওয়ার কামনা নিয়ে ও সুখ-সমৃদ্ধির আশা নিয়ে দেবী ভান্ডানীর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়। একাদশী থেকে লক্ষ্মী পুজো পর্যন্ত চলে ব্যাঘ্রবাহিনী ভান্ডানী দেবীর পুজো হয় তন্ত্রমতে । দেবীর গায়ের রঙ রক্তবর্ণ।

Free Access

Related Articles