Truth Of Bengal: এসএসসি-র অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে রাজ্য যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই শিক্ষকতার পেশা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক রায় শিক্ষকদের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলল। শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, পদোন্নতি বা চাকরি চালিয়ে যেতে হলে শিক্ষকদের টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক(Teacher Eligibility)। যারা টেট পাশ করতে পারবেন না, তাঁদের চাকরি হারাতে হবে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলেও টেট পাশ না করলে শিক্ষকতায় থাকা যাবে না। তবে ২০০৯ সালের শিশুদের বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে শিক্ষা অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের টেট পাশ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ED Raid: হিন্দমোটরে ইডির হানা, ফ্ল্যাটে ঢুকল কেন্দ্রীয় বাহিনী
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যারা টেট পাশ করবেন না, তাঁদের হয় চাকরি ছেড়ে দিতে হবে অথবা টার্মিনাল বেনিফিট নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে। যদিও এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত(Teacher Eligibility)। যাদের অবসর নিতে আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি, তাদের টেট পাশ না করলেও চাকরি করে অবসর নিতে দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে তাঁরা কোনো পদোন্নতি পাবেন না।
লিঙ্কঃhttps://www.facebook.com/truthofbengal
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন ২০১১ সালেই ঘোষণা করেছিল, শিক্ষকপদে নিয়োগের জন্য টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই নিয়মকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। সেই মামলাগুলির প্রেক্ষিতেই এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত(Teacher Eligibility)। তবে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে টেট পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকা এবং দুর্নীতির অভিযোগে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এসএসসি মামলায় অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হওয়ায় যোগ্য প্রার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি ফেরত চেয়ে আন্দোলন করছেন। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, নতুন নিয়মেই তাঁদের পরীক্ষায় বসতে হবে।
আগামী ৭ এবং ১৪ তারিখে নতুন নিয়মে এসএসসির পরীক্ষা হতে চলেছে। এসএসসি সূত্রে খবর, এবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে চলেছেন প্রায় ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার প্রার্থী। ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার নিয়ম ছিল স্নাতক পর্যায়ে অন্তত ৪৫ শতাংশ নম্বর থাকলেই আবেদন করা যাবে। কিন্তু পরে সেই নিয়ম বদলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে।






