India South Africa T20: কুয়াশায় ভেস্তে গেল লখনউয়ের ম্যাচ, শীতকালীন ক্রিকেটের ভেন্যু নিয়ে এবার সংসদে সরব শশী থারুর
শীতকালে উত্তর ভারতের বদলে কেরল বা দক্ষিণ ভারতে ম্যাচ আয়োজন করার অনুরোধ জানান তিনি।
Truth of Bengal: লখনউয়ে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কুয়াশার কারণে বাতিল হওয়ার রেশ পৌঁছে গেল সংসদ পর্যন্ত। ম্যাচ বাতিলের পরদিন, বৃহস্পতিবার সংসদের বাইরে এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। শীতকালে উত্তর ভারতের বদলে কেরল বা দক্ষিণ ভারতে ম্যাচ আয়োজন করার অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর এই প্রস্তাবের উত্তরে বোর্ড সভাপতি ও কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্লা রসিকতার সুরে বলেন, তা হলে সব ম্যাচই কেরলে আয়োজন করা হোক।সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজীব শুক্লাকে দেখে তাঁকে ডেকে নিয়ে থারুর বলেন, এই শীতে উত্তর ভারতে ম্যাচ আয়োজন না করে কেরলে আসুন। উত্তরে রাজীব বলেন, সূচি তৈরির সময় আরও একটু ভাবতে হবে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে উত্তর ভারতে ম্যাচ না পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। তবে কেরলেও নিয়ম মেনে ম্যাচ দেওয়া হয়।
এরপর থারুর বলেন, অন্তত এই সময়টুকুতে কেরলে ম্যাচ দেওয়া হোক।তখন রাজীব হাসতে হাসতে বলেন, ‘তা হলে সব ম্যাচই কেরলে পাঠিয়ে দিই।এই কথোপকথন ঘিরে দু’জনেই হেসে ওঠেন।কেন দক্ষিণ ভারতে ম্যাচ আয়োজন করা উচিত, তা ব্যাখ্যা করে থারুর বলেন, বলই যদি দেখা না যায়, তা হলে ম্যাচ হবে কী করে? দক্ষিণ ভারতে দূষণ নেই, কুয়াশাও হয় না। বল স্পষ্ট দেখা যায়। এতে দর্শকরাও হতাশ হবেন না।
এদিকে, ম্যাচ বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও। রবিন উথাপ্পা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাত বাড়লে পরিস্থিতি ভাল হবে—এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। কুয়াশা কমবে না, বরং বাড়বে। কী ভেবে বারবার অপেক্ষা করানো হচ্ছিল, বুঝতে পারছি না। আমি ভাষাহীন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ডেল স্টেন বলেন, আম্পায়ারদের এনে জিজ্ঞেস করা উচিত, আসলে কী হচ্ছে। ক্রিকেটাররা খেলতে চায়। কেন অকারণে অপেক্ষা করানো হচ্ছে? আমি নিজে এর থেকেও খারাপ পরিস্থিতিতে খেলেছি, যদিও এখনকার নিয়ম আমি ঠিক জানি না।
উল্লেখ্য, বুধবার লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটা থেকে ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অত্যধিক বায়ুদূষণের ফলে গভীর কুয়াশা নেমে আসে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, দু’হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই ঘটনায় দায় কার—তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দিকে আঙুল উঠছে বায়ুদূষণের জন্য। অন্যদিকে, প্রশ্ন উঠছে, যখন শীতকালে উত্তর ভারতে ভয়াবহ দূষণের বিষয়টি আগে থেকেই জানা, তখন কেন এই সময়ে লখনউয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ রাখা হল? ওই সময় লখনউয়ের ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ ছিল ৪১১—যা চরম বিপজ্জনক ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।
ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। বোর্ডের ভেন্যু রোটেশনের নিয়ম থাকলেও ডিসেম্বরের ম্যাচ দক্ষিণ ভারতে এবং জানুয়ারির সিরিজ উত্তর ভারতে আয়োজন করা যেত। আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সাদা বলের সিরিজ দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের শহরগুলিতে আয়োজন করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সূচিতে সামান্য বদল আনলে লখনউয়ের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না।



