খেলা

ধোনির বায়োপিক থেকে অনুপ্রেরণা, দুবাইয়ের রাস্তা পেরিয়ে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ‘রহস্য’ উসমান

কিন্তু এক সিনেমা বদলে দেয় সবকিছু—এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি।

Truth Of Bengal: টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের জার্সিতে নতুন এক চমক—উসমান তারিক। রহস্যময় অ্যাকশন, সাইড-আর্ম ডেলিভারি আর বল ছাড়ার আগে মুহূর্তের অদ্ভুত ‘পজ’—সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাটারদের ধাঁধায় ফেলছেন এই অফ-স্পিনার। ভারত-পাকিস্তান মহারণের আগে সূর্যকুমার যাদবদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে তাঁর নাম।

উসমানের গল্পটা রূপকথার মতো। দুবাইয়ের রাস্তায় ছুটির দিনে টেপ বল ক্রিকেট খেলা থেকে শুরু। জীবনের এক সময় পেঁয়াজ কাটার কাজও করেছেন। তখন স্বপ্ন দেখার সাহসটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু এক সিনেমা বদলে দেয় সবকিছু—এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি।

ধোনির জীবনসংগ্রাম দেখে নতুন করে বিশ্বাস জন্মায় উসমানের মনে। তাঁর কথায়, “ক্রিকেটে সফল হওয়ার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। সিনেমাটা দেখার পরই মনে হল, আমিও পারব।” সেই বিশ্বাসই তাঁকে ফিরিয়ে আনে বাইশ গজে।

শুরুর পথ সহজ ছিল না। নেট বোলার হিসাবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সুযোগ আসে পাকিস্তান দলে। আর এ বার সরাসরি টি-২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা। যা নিজেও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি উসমান। তাঁর উত্থানের নেপথ্যে তিনি কৃতিত্ব দেন স্ত্রীকে, “ও-ই আমার জীবনে সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে।”

১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর মাঠে ভারতের ব্যাটারদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন এই রহস্য-স্পিনার। ইতিমধ্যেই তাঁকে ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ বলা হচ্ছে। প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং সতর্ক করে বলেছেন, “ভারত জিতবে বলেই আমার বিশ্বাস। তবে উসমান খুব ভাল স্পিনার, ওকে সাবধানে খেলতে হবে।”

ধোনির জীবন থেকে শেখা লড়াইয়ের পাঠ—সেই অনুপ্রেরণাতেই আজ পাকিস্তানের অন্যতম ভরসা উসমান তারিক। আর সেই কারণেই ভারতীয় শিবিরে এখন একটাই আলোচনা—এই রহস্যের জট খুলবে কী ভাবে?