IND vs ENG: বাজবল-এর কঙ্কাল বেড়িয়ে পড়ল আন্ডারডগদের নাছোড় কামড়ে
তারপর দ্বিতীয় টেস্টে বুমরা-কুলদীপদের বাদ দিয়ে নীতীশ- সুন্দরদের মত অলরাউন্ডরদের নিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিল গিলের দল।
যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায় : সেই ২০১১-তে শেষ ভারতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট জিতেছে রো-কো- অশ্বিন দের ছাড়া! সেই বিশ্বজয়ী ত্রয়ী এখন অবসরে। এর ওপর হারা অসম্ভব এমন অবস্থা থেকে প্রথম টেস্টে হেরে বসেছে দল। তারপর দ্বিতীয় টেস্টে বুমরা-কুলদীপদের বাদ দিয়ে নীতীশ- সুন্দরদের মত অলরাউন্ডরদের নিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিল গিলের দল। সেই অবস্থায় অতি বড় সমর্থক রাও কি ভেবেছিলেন ভারত এভাবে বাজ-বলিয়ান ইংল্যান্ডকে ৩৩৬ রানে দূরমুশ করবে তাও এমন মাঠে যেখানে ৯৩ বছরে ভারত একবার ও জিততে পারেনি? কি করে সম্ভব হল এই অসম্ভব?(IND vs ENG)

একটু খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে এই মসৃণ ব্যাটিং পিচে ডুকেশ বল নিয়ে যে সময়টুকু বোলাররা একটু সাহায্য পায় অর্থাৎ নতুন বলের সেই প্রথম ২০-৩০ ওভার সেই সময়ের পুরো ফায়দা তুলতে পেরেছেন ভারতের বোলাররা। ওই সময়টুকুতে দুই ইনিংস মিলিয়ে যেখানে ইংল্যান্ডের ওকস-কার্সেরা প্রায় ৪০০ রানে ৮ উইকেট তুলেছেন সেখানে সিরাজ-আকাশদের সংগ্রহ ৩০০ রানে ১৫টি উইকেট অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ! অবশ্যই আকাশ-সিরাজদের কৃতিত্ব অনেক বেশি। বিশেষত আকাশ যেভাবে বোলিং ক্রিজের প্রস্থ ব্যবহার করেছেন তা দেখার মত। রুটের মত ব্যাটারও বোকা বনে বলের লাইন ধরতে না পেরে বোল্ড হয়েছেন। কিন্তু এটাও ঠিক যে ইংল্যান্ড হয়তো প্রয়োজনের বেশি আক্রমণ করে গিয়েই মাসুল গুণল। ক্রাউলি- ডাকেট- রুট- স্মিথ- ব্রুকরা সবাই কিন্তু পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে বাজবল অনুসারে আক্রমণের রাস্তায় গিয়েছেন। এমনকি পঞ্চম দিনেও এরা কেউ রিভার্স সুইপ করে আউট হয়েছেন জয় অসম্ভব জেনেও।( IND vs ENG)
[আরও পড়ুনঃ Dallas Tragedy: আমেরিকায় ছুটি কাটাতে গিয়ে প্রাণ গেল হায়দরাবাদের দম্পতি ও দুই সন্তানের]
এখানেই পড়ে পাওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন ভারতের বোলাররা। তাঁরা ঠিক লেংথে স্টাম্পের মধ্যে বল রেখে গিয়েছেন এবং ইংল্যান্ড ব্যাটারদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন অল্পতেই। দুটো ইনিংসেই রুট- স্টোকস- পপ- ডাকেট-ক্রিউলি সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডর প্রথম ৫ উইকেট চলে গিয়েছে ৮৫ রানের মধ্যে, ভাবা যায়? ওদিকে ইংল্যান্ড বোলাররাও ভারতের ব্যাটারদের সহজে আউট করতে না পেরে আক্রমণের রাস্তায় গিয়েছেন এবং তার ফলে ভুল জায়গায় বল করে বেশি রান দিয়ে সুবিধে করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের! দুটি ক্ষেত্রেই তাঁদের ব্যাটাররা একটু ধরে খেললে এবং তাঁদের বোলাররা রান আটকাবার রাস্তায় গেলে ইংল্যান্ড আর যাই হোক এভাবে ম্যাচ হেরে বসত না।( IND vs ENG)
[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]
মোদ্দা কথা এই যে বাজবল হোক বা যাই হোক অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা না নিতে পারলে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। স্টোকস একসময় অবজ্ঞা নিয়ে বলেছিলেন ‘ম্যাচ ড্র করার খেলা আমরা খেলি না’! কিন্তু জীবন যুদ্ধের মতই ক্রিকেটেরও অমোঘ সত্য এটাই যে, জিততে গেলে কখনো কখনো সাফল্যের সঙ্গে পিছিয়ে আসতে হয়। তার প্রমাণ হিসেবে খোদ ইংরেজরাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ডানকার্কের ‘গ্লোরিয়াস রিট্রেটের’ কথা এখনও গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করে! বিদেশে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেও বাজবল এতদিন অপরাজিত ছিল ঘরের মাঠে। কিন্তু সেই ধারাও ভেঙে দিয়ে গৌতি- গিলের এই তরুণ দল যেন এজবাস্টনে বাজবলের ওয়াটারলু তৈরি করে দিলো। এদের হারাবার কিছু নেই, ইংল্যান্ডএর মত অনাবশ্যক কোনও তাড়াও নেই। বাজবলের অতি আগ্রাসনের আড়ালে কোথায় দুর্বলতা তা বুঝে নিয়ে এই তরুণ তুর্কি বাহিনী কিন্তু আরো জোরালো কামড় দিতে প্রস্তুত হচ্ছে! ফিরে আসছে বুমরা, দলে সামিল হতে প্রস্তুত কুলদীপ, সিরাজ -আকাশরা তো ফর্মে আছেনই। সামনে লর্ডসের মহারণেই হবে বাজবলের অগ্নি পরীক্ষা।( IND vs ENG)






