গঙ্গা পাড়ে প্রথম টেস্টে হার টিম ইন্ডিয়ার, পিচের জাদুতে জয়ী বাভুমারা
ম্যাচ শুরুর আগেই ইডেনের পিচই যেন উঠে এসেছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এইরকম পিচ চাই, ওইরকম পিচ চাই, কত আবদার কত কিছুই করা হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে।
Truth Of Bengal: ক্রিকেট আর কত প্রমাণ করবে যে অনিশ্চয়তার খেলা। ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট দেখার পর আর কারোর এই বিষয়ে সন্দিহান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তার চেয়ে বড় বিষয়টা যেটা প্রথম টেস্টে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠল সেটা হল ক্রিকেটের নন্দনকাননে পিচের এমন আচরণ। যা ঘুণাক্ষরেও ম্যাচের আগে টের পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে নানা মত, নানা বিশ্লেষণ, আলোচনায় চাপের কাপে তুষাণ উঠতে শুরু করে দিয়েছে নিশ্চয়ই। অবশ্যই এমন আলোচনা হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ম্যাচ বলে কথা।
ম্যাচ শুরুর আগেই ইডেনের পিচই যেন উঠে এসেছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এইরকম পিচ চাই, ওইরকম পিচ চাই, কত আবদার কত কিছুই করা হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে। এমনকি নাকি বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সর্বোচ্চ পদাধিকারীও দাবি করেছিলেন, ‘ভারত যে রকম চাইবে, সেইরকম পিচই করা হবে।’ আবার প্রথম দিনের খেলা দেখে উল্টো সুর গাইতে শুরু করলেন টিম ইন্ডিয়ার বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তিনি নাকি বুঝতেই পারেননি পিচ প্রথম থেকেই এতটা খারাপ আচরণ করবে। তাহলে কি ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। যাই হোক না কেন, প্রথম টেস্টে সব আলোচনার বিষয়বস্তুই কিন্তু সেই পিচ। যার ভেল্কি নাচনেই গঙ্গা পাড়ে মুখ থুবড়ে পড়ল গম্ভীরের দল।
শেষ কবে ইডেনের পিচ এইরকম আচরণ করেছে, তা ম্যাচ শেষে ইডেন ছাড়ার সময় আম-জনতার মুখেই ঘোড়াফেরা করতে লাগল। কেউ হয়ত স্মৃতি রোমান্থন করে খোঁজার চেষ্টা করলেন, আবার কেউ হয়ত সরাসরিই বলে দিলেন, এই প্রথমবার ইডেনের পিচ এমন ভেল্কি নাচন নাচিয়ে ছাড়ল।
যাই হোক ম্যাচের রিপোর্ট লিখতে বসে প্রথমেই অনুমান করা গিয়েছিল, এই পিচে দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন বিপদে পড়েছে, তেমনই বিপদ বাড়তে পারে টিম ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও। হলও ঠিক তাই। তৃতীয় দিনের শুরু থেকে বাভুমা ও বস ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকলেন। তবে তা বেশিক্ষণের জন্য নয়। ব্যক্তিগত ২৫ রানের মাথায় বুমরার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভেলিয়নে বস ফিরে যান। এরপরই নিজের অর্ধ্বশত রান পূর্ণ করে ফেলেন বাভুমা। ১২৩ বল খেলে এই রান করেন প্রোটিয়াস অধিনায়ক। বসের পর দলের বাকি ব্যাটাররা আয়ারাম আর গয়ারাম হলেও শেষ অবধি ৫৫ রানে অপরাজিত থেকেই যান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাবজয়ী অধিনায়ক। তাদের সংগ্রহ ১৫৩ রান।
ম্যাচ জিততে গেলে পন্থ-রাহুল-কুলদীপদের দরকার ছিল মাত্র ১২৪ রান। কিন্তু ‘ভেল্কি নাচন’ নাচা এই পিচে যা করা মানে অনেকটা বিনা অক্সিজেনে এভারেস্ট সামিটের মত। যেখানে পা বাড়ানো মানেই বিপদ যেন ওত পেতে বসে আছে। যা হল মেন-ইন-ব্লুজদের।
প্রথম ইনিংসে অল্প রান পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোরবোর্ডে রান ওঠার আগেই কোনও রান না করে ফিলেন যশস্বী। ম্যাচে অঘটন ঘটার অপেক্ষা করছে বলে ইঙ্গিতটা তখনই বুঝি দিয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার জানসেন। তারপর একেই পথের পথিক রাহুল। তিন নম্বরে এসে ওয়াশিংটন চেষ্টা করলেন বটে, কিন্তু উপযুক্ত সঙ্গী পেলেন না। পন্থ, জুরেল, জাড্ডুরা এত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরলেন, তাতেই ম্যাচের ভাগ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। সব শেষে অক্ষর চেষ্টা করলেন বটে, তাঁর চেষ্টাতে লাভের লাভ হল না। ১০০ রানের গণ্ডিও পার করতে না পেরে ৯৩ রানেই বাণ্ডিল হয়ে গেল মেন-ইন-ব্লুজরা।
তবে এই ম্যাচে বল হাতে ভারতকে ধরাশায়ী করার মূল কারীগরই হলেন হারমের। ২১ রানের বিনিময়ে একাই চারটি উইকেট ঝুলিতে পোড়েন তিনি।






