মেলবোর্নে রোহিতদের অনুশীলনের পিচ নিয়েও বৈষম্য শুরু অস্ট্রেলিয়ার
Discrimination also started with Rohit's practice pitch in Melbourne
Truth Of Bengal: মেলবোর্নে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই, মাঠের বাইরের লড়াইয়ে ক্রমাগত ভারতীয় দলকে হেনস্থা শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম। এবার অনুশীলনের পিচ নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। দুই দলকে অনুশীলনের জন্য দেওয়া হয়েছে দুই ধরনের পিচ।
আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেলবোর্নে শুরু হবে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ টেস্ট। সেই কারণে শনি ও রবিবার অনুশীলনের জন্য দিন নির্ধারণ হয় ভারতীয় দলের জন্য। অনুশীলনে রোহিত-বিরাট-বুমরারা যে পিচে অনুশীলন করছিলেন সেখানে বাউন্স ছিল খুব কম। ফলে বাউন্সের জন্য বোলারদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছিল। এছাড়া পিচের বেশ কয়েকটা জায়গায় বেশ কিছু চিহ্ন দেখা গিয়েছে, যা দেখে বোঝাই যায়, এটা নতুন কোনও পিচ নয়।
এরপরই এই বিষয়ে মুখ খোলেন পেসার আকাশদীপ সিং। বাংলার এই পেসার বলেন, আমাদের অনুশীলনের জন্য যে পিচ বরাদ্দ হয়েছিল, তাতে অনেকাংশে ফাটল ছিল। বাউন্স ছিল একেবারেই না থাকার মতো। সাধারণত অস্ট্রেলিয়াতে যে ধরনের পিচে ম্যাচ খেলা হয়, এই পিচ ছিল তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এদিকে সোমবার অনুশীলনে ছুটি ছিল গম্ভীরের দলের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন ছিল। সেই সময়ই দেখা যায় ভারতীয় দল যে পিচে অনুশীলন করেছিল, কামিন্স-ট্রাভিস হেডরা অন্য পিচে অনুশীলন করছেন। পাশাপাশি চোখ পড়ে দুটি পিচের পার্থক্যও।
অনুশীলনের পিচ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন মেলবোর্নের পিচ কিউরেটার ম্যাট পেগ। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ম হল যে কোনও টেস্ট ম্যাচের তিন দিন আগে নতুন পিচে অনুশীলন করতে দেওয়া হবে। টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের আগেই তাদের অনুশীলনের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেইমতো অনুশীলনের জন্য পিচ নির্ধারণ করি। সেটা এবারও করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করার কিছু নেই।
এদিকে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের কেমন হবে তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পিচ কিউরেটর বলেন, বিগত দু-তিন বছর মেলবোর্নের পিচ ঠিক যেরকম ছিল, এবারও সেইরকমই হবে। নতুন করে পিচ তৈরি করা হয়নি।
উল্লেখ্য, মেলবোর্নের পিচ আগে পাটা ছিল, সেই কারণে পেসাররা সুবিধা পেতেন। কিন্তু আচমকা কেন মেলবোর্নের পিচ বদল করা হল, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাট পেগ জানান, আমরা বিগত বেশ কয়েক বছর আগে এক বৈঠকে বসে ঠিক করেছিলাম মেলবোর্নের পিচে বদল আনা দরকার। নইলে এই মাঠে টেস্টের খেলায় কোনও ফলাফল নির্ধারণ হবে না। তাই এখন পিচে অনেক ঘাস থাকছে। ফলে পেসাররা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। এমনকি বল পুরনো হয়ে গেলে স্পিনাররাও সুবিধা আদায় করছেন এই পিচ থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই জানান তিনি।
পিচ কিউরেটরের কথা অনুযায়ী মেলবোর্নের পিচ থেকে পেসরারা সুবিধা আদায় করলেও স্পিনাররা খুব একটা সুবিধা পাবেন না। ফলে দুই দলই তাঁদের চূড়ান্ত একাদশে একজনের বেশি স্পিনার খেলাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেননা পিচে ৬ মিটার ঘাস রয়েছে। ফলে পিচ খুব একটা ভাঙবে না। তাঁরা যে ব্যাটার এবং বোলারদের মধ্যে জোরদার লড়াই দেখতে চাইছেন, সেকথাও জানাতে ভুললেন না তিনি।
এদিকে দুই দলের কাছেই এই টেস্টের গুরুত্ব সমান। কেননা, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার ছাড়পত্র আদায় করতে গেলে মেলবোর্ন টেস্টে দুই দলকেই জিততে হবে। কাজেই যে দল জিতবে তারাই আগামী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে অংশগ্রহণের দিকে অনেকটাই পা বাড়িয়ে রাখবে।






