
The Truth of Bengal: শীতকাল মানেই রকমারি মেলা। ছোট হোক কিংবা বড়ো সব বয়সিদের জন্যই মেলার মূল আকর্ষণ হল নাগরদোলা। কিন্তু জানেন কি কোথায় আছে বিশ্বের নাগরদোলার রাজধানী? আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের কাছেই রয়েছে শহরতলি বিংহ্যামটন টাউন। সাকুল্যে ৫০ হাজার মানুষের বাস এই বিংহ্যামটন টাউনে। বিংহ্যামটন টাউনের মাথায় “বিশ্বের নাগরদোলার রাজধানী” বা “Carousal capital of the world” এর শিরোপা উঠেছে। আর পাঁচটা মার্কিন টাউনের চেয়ে আলাদা নয় বিংহ্যামটন। আধুনিকতার ছোঁয়া পরতে পরতে থাকলেও এখানে এখনো অতীত সমান ভাবে চলমান।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮ শতকের শেষ দিকে বিশ্বে প্রথম নাগরদোলার প্রচলন শুরু হয়। এখন বিংহ্যামটন টাউনে গেলে ভিন্টেজ মেরি গো রাউন্ড বা নাগরদোলার দেখা পাওয়া যায়।
যা দেখতে দেখতে টাইম মেশিনে চেপে যেন নিমেষে অতীতে ফিরে যাওয়া যায়। সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বিংহ্যামটনে এলে। বিংহ্যামটনেই ছিল এন্ডিকট-জনশন শ্যু কোম্পানি নামে এক জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থা। সেই সংস্থার অন্যতম মালিক জর্জ এফ জনশনের মাথায় প্রথম নাগরদোলা তৈরির ভাবনা আসে। জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থার ২০ হাজার কর্মীর বিনোদনের ব্যবস্থার উদ্দেশ্যেই তিনি নাগরদোলা তৈরি করেন। গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় এই সংস্থা এক বছরে ৫ কোটি ২০ লাখ জোড়া জুতো তৈরি করেছিল। ১৯১৯ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে বিংহ্যামটন টাউনে ৬টি নাগরদোলা বসান জনশন। তিনি মনে করতেন জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্মীদের ও তাঁদের পরিজনদের জন্য যদি বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে তা’হলে কর্মীরা কখনোই এই সংস্থা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে না।
কর্মীদের খুশি করতে নাগরদোলার পাশাপাশি লাইব্রেরি, থিয়েটার ও গলফ কোর্সও তৈরি করান জনশন। নাগরদোলায় চড়তে কোনো অর্থ লাগত না। এখনো জনশনের বসানো নাগরদোলার দেখা মিলবে বিংহ্যামটন টাউনের রোজ পার্ক জ্যুতে। এই নাগরদোলা ১৮ শতকের শেষ দিকে তৈরি। কাঠের প্যাভিলিয়নের মধ্যে রয়েছে নাগরদোলা। ১৬টি সাইড রয়েছে, মোট ৬০টি ঘোড়া রয়েছে। ১৯২৫ সালে নির্মিত আরও একটি নাগরদোলা রয়েছে রিক্রিয়েশন পার্কে। এটাতেও ছুটন্ত ভঙ্গিতে ৬০টি ঘোড়া রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো ৭২টি ঘোড়া সমেত নাগরদোলা রয়েছে জনশন পার্কে। জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে দান করা আরও একটি নাগরদোলা রয়েছে হাইল্যান্ড পার্কে। এই নাগরদোলায় ঘোড়া, শূকর ও কুকুরও থাকে।






