কলকাতা

খাস কলকাতায় সাতসকালে জোরালো বিস্ফোরণ! নাশকতার ছক না প্রোমোটিং বিবাদ?

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘুমের ঘোরে তাঁরা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পান।

Truth of Bengal: শনিবার সাতসকালে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া। স্থানীয় একটি ক্লাবে পর পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ক্লাবের টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশের একটি ছয় তলা বাড়ির ছাদে পড়ে। ক্লাবঘরটির দেওয়াল ধসে গিয়েছে এবং ভেতরে আগুন লেগে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘুমের ঘোরে তাঁরা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন ক্লাবঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালানো হয়। খবর পেয়ে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চিৎপুর থানার পুলিশ এবং দমকলের ইঞ্জিন। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গোটা এলাকা থমথমে।

বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। তাঁদের অভিযোগ, ওই পরিত্যক্ত ক্লাবঘরটিতে আগে থেকেই প্রচুর বোমা মজুত করে রাখা ছিল। এমনকি বিস্ফোরণের পরেও ভেতরে বেশ কিছু তাজা বোমা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড। ওই এলাকায় আরও বোমা লুকানো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের একাংশ। ক্লাবের সেক্রেটারির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ দিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যক্তির নজর ছিল ওই ক্লাবের জমির ওপর। ক্লাবটি দখল করার উদ্দেশ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে এই নাশকতামূলক কাজ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এলাকাবাসীদের মধ্যে এখন আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা এলাকায় স্থায়ী পুলিশ পিকেট এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

কলকাতায় গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিক বোমাতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে। নগর দায়রা আদালত, পাসপোর্ট অফিস এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় উড়ো ইমেল পাঠিয়ে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পাইকপাড়ার এই বাস্তব বিস্ফোরণ শহরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। চিৎপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles