রাজ্যের খবর

“যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়!”, বারবার অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলায় বিরক্ত হাইকোর্ট, রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা

"ভুল চিকিৎসার জন্য অভিষেক কীভাবে দায়ী হতে পারেন?", হাইকোর্টের ক্ষোভের মুখে তদন্তকারী দল, নভেম্বর পর্যন্ত বড় সুরক্ষা!

Truth of Bengal: ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কথিত দুর্নীতি ও বেআইনি চিকিৎসার মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বড়সড় আইনি রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। একইসঙ্গে বারবার একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাননীয় বিচারপতি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ বা রাজ্য প্রশাসন এভাবে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে মামলা করে গেলে আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর মামলার মতো কঠোর ও নজিরবিহীন নির্দেশ জারি করতে বাধ্য হবে উচ্চ আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিষেকের উদ্যোগে সংসদীয় এলাকায় আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের বিরুদ্ধে বেআইনি ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন লঙ্ঘন ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর ও রবীন্দ্রনগর থানায় পৃথক এফআইআর করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন অভিষেকের কাছে দু’বার ভোটে পরাজিত হওয়া বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। এ দিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে, ভুল চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা কেন মেডিক্যাল কাউন্সিল বা ক্রেতা সুরক্ষায় জানানো হল না? এছাড়া অভিষেক নিজে চিকিৎসক নন, তবে কেন তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হচ্ছে?

বিচারপতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণে বলেন, “গত কয়েক মাসে একই ব্যক্তির নামে লাগাতার একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত এ নিয়ে সত্যিই বিরক্ত। অতীতে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যেভাবে একের পর এক এফআইআর করা হয়েছিল এবং আদালত তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, এই ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি ছাড়া আর নতুন এফআইআর করা যাবে না, এমন নির্দেশ জারি করতে আমরা বাধ্য হব।”

বর্তমানে আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার সূত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিদেশে থাকা অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ ও অয়ন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে অভিযোগকারীর আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় সওয়ালে জানান, প্রশাসনিক ক্ষমতা বদলে যাওয়ার পরই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আদালত সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি চালানো যাবে না। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ডাকতে চাইলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পাঠাতে হবে। বিদেশ থেকে ফিরে ২২ সেপ্টেম্বরের পর অভিষেক আদালতে হাজিরা সম্পর্কিত তথ্য জানাবেন।

Related Articles