কলকাতা

ফুসফুস এফোঁড় ওফোঁড় গাছের ডালে, প্রাণ বাঁচাল এসএসকেএম

Lungs burst on tree branch, SSKM saves life

Truth Of Bengal: অসাবধানতা বসত জড়ো করে রাখা গাছের কাটা ডালপালার উপরে পড়ে গিয়েছিলেন বছর ৪৩-এর এক ব্যক্তি। একটি ডাল তার ডান দিকের বগলের নীচ দিয়ে ঢুকে ফুসফুস ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে। প্রায় দু’ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে সেটি বার করে এবং ফুসফুস মেরামত করে ওই যুবকের প্রাণ বাঁচাল এসএসকেএম।

পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা খোকন বিশ্বাস পেশায় কনস্টেবল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে শৌচাগারে যাওয়ার সময়ে তিনি কোনও ভাবে ঘরের বারান্দায় ডাঁই করে রাখা গাছের কাঠ ও ডালপালার উপরে পড়ে যান। সেসময় একটি গাছের ডাল ডান দিকের বগলের নীচ দিয়ে ঢুকে ফুসফুস ফুটো করে বেরিয়ে পিঠের কাছে আটকে যায়।

ওই ব্যাক্তি নিজে গাছের ডালটি টেনে বের করতে গেলে ডালটি ভেঙে যায়। ডালটি ভেঙে শরীরর বাকি অংশে ঢুকে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে।

পিজি-র শল্য বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের ইউনিটের অধীনে ভর্তি করা হয় খোকনকে। ডাক্তাররা বলেছেন , “অস্ত্রোপচারে অ্যানাস্থেশিয়ার ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, রোগী বেশি নড়াচড়া করলে শিরদাঁড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিরা, ধমনীর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। পুরো বুক কেটে ভিতরে ফুসফুস ফুঁড়ে থাকা প্রায় সাত ইঞ্চি লম্বা ডালটি বার করা হয়। তার পরে ফুসফুসটি মেরামত করা হয়।’’

ফুসফুসে যাতে কোন ভাবেই সংক্রমণ না হয় সেদিকে নজর রেখেছেন চিকিৎসকরা। ডাঃ দিপ্তেন্দ্রর কথায়, “শল্য বিভাগের সহকারী শিক্ষক ও জুনিয়র চিকিৎসকেরা এবং অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করে যুবককে বাঁচিয়েছেন। সব মিলিয়ে এটি এসএসকেএমের সার্বিক সাফল্য”

Related Articles