“ভগবান এঁদের ক্ষমা করুন!”, এবার তৃণমূল নেতাদের বিজেপি-যোগ রুখতে ইস্তফার হুঁশিয়ারি কৌস্তভের
হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তের বাড়িতে বিজেপি নেতারা! দল অস্বস্তিতে পড়লে ইস্তফার ইঙ্গিত কৌস্তভ বাগচীর
Truth of Bengal: টিটাগড়ের জনপ্রিয় বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে দল ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে রাজ্য বিজেপি দপ্তরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। কিন্তু তাঁর সেই চরম সতর্কবার্তাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ব্যারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন স্থানীয় একাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তৃণমূলের অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের মিষ্টি মুখ ও কোলাকুলির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আর এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, “ভগবান এঁদের ক্ষমা করুন, এঁরা জানেন না কী করছেন।” সেই সঙ্গেই তাঁর স্পষ্ট বার্তা, তিনি দলবিরোধী নন, তবে তাঁর জন্য দল বিড়ম্বনায় পড়লে ইস্তফা দিতেও পিছপা হবেন না।
সম্প্রতি মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীকে একাধিক বিজেপির রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এরপরই সুর চড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন কৌস্তভ। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, মণীশের হত্যাকারীদের কোনওভাবেই বিজেপিতে ঢোকাতে দেওয়া হবে না, আর যদি তা হয় তবে দরকারে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ের সামনে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেবেন। নাম না করলেও দলীয় এই পদক্ষেপের পেছনে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের হাত রয়েছে বলেই ইঙ্গিত করেছিলেন কৌস্তভ।
তবে সেই মারাত্মক আত্মহত্যার হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করেই উত্তম দাসের বাসভবনে বিজয়া সারতে পৌঁছান দলীয় কর্মীরা। যদিও উভয় পক্ষই একে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছে, কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উত্তমের বিজেপিতে যোগদান এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। এই কোন্দল প্রসঙ্গে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, “বিজেপিতে কে যোগ দেবে তা পার্টির শীর্ষ কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। উনি (কৌস্তভ) তো নিজেও কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসেছেন, উনি পারলে অন্যরা কেন পারবেন না?” অন্যদিকে বিধায়ক অর্জুন সিং সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি ভালভাবেই জানি রাজনীতি কীভাবে করতে হয়।”
এই পুরো ঘটনার পর বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দলের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ, তাই দলকে কখনও বিড়ম্বনায় ফেলব না। কারও কারও নির্দেশে যা হচ্ছে, তা একদমই ভাল হচ্ছে না। কয়েকদিন পর এরা নিজেরাই আয়নায় মুখ দেখতে পারবে না।” একই সঙ্গে বিধায়ক ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ঘটনায় দলীয় স্তরে জল ঘোলা হলে তিনি নিজের পথ বেছে নিতে পারেন।





