সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ল ৫ বছর, আয়ুষ্মান ভারত থেকে বিশ্বকর্মা যোজনা— একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হল বাংলা
মুখ্যমন্ত্রী নিজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ছয়টি বড় ঘোষণা করেন
Truth of Bengal: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। সোমবারের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ছয়টি বড় ঘোষণা করেন। শুরুতেই তিনি বাংলার গণতন্ত্রকে মর্যাদা দিয়ে ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানের জন্য রাজ্যের মানুষকে কুর্নিশ জানান। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমকেও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে সরকার। তাঁদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই পরিবারগুলির অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংস্থান করার বিষয়ে সরকার দায়বদ্ধ থাকবে বলে তিনি জানান। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দেশের ও রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ-এর জমি জট কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে নবান্ন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থায় বড় বদল এনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং বিশ্বকর্মা যোজনার মতো সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন থেকে বাংলায় কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের মানুষ সরাসরি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সংস্কার এনে জানানো হয়েছে, এতদিন পশ্চিমবঙ্গের আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে উন্নত প্রশিক্ষণে যাওয়ার সুযোগ পেতেন না। নতুন সরকার সেই বাধা তুলে নিয়ে তাঁদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া রাজ্যে বিচারব্যবস্থায় অভিন্নতা বজায় রাখতে এখন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হলো। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় অনেক চাকরিপ্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের এই কর্মতৎপরতা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যের প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলতে প্রথম দিন থেকেই মরিয়া শুভেন্দু সরকার।





