ভোটের মুখে ইডির বড় চাল! পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে
শুক্রবার রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন করে সক্রিয়তা দেখাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। শুক্রবার এই মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি সপ্তাহেই জমি দখল সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় রাসবিহারীর তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকে তিন দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। উল্লেখ্য, এই তিন জনই আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের পুরনো কেন্দ্র যথাক্রমে বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম ও রাসবিহারী থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রীয় তৎপরতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের ঠিক আগে ইডি, সিবিআই বা এনআইএ-র মতো সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি আসলে তাদের রাজনৈতিক শরিক হিসেবে মাঠে নামিয়েছে। দিল্লির আবগারি মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রেও একই কৌশল নেওয়া হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। বাংলার মাটিতে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি সুবিধা করতে পারবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রী সুজিত বসুকে আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) এবং রথীন ঘোষকে বুধবার (৯ এপ্রিল) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই দিনগুলিতে দুই প্রার্থীরই আগে থেকে নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় তাঁদের হাজিরা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে রথীন ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সুজিত বসুর দফতর ও বাসভবনে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
পুর নিয়োগ দুর্নীতির এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন। তদন্তকারীরা সল্টলেকে ব্যবসায়ী অয়ন শীলের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পুরসভার উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট উদ্ধার করেন। ওএমআর মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা অয়নের সংস্থার মাধ্যমেই নিয়োগে বড়সড় কারচুপির হদিস মেলে। সিবিআই তাদের চার্জশিটে দাবি করেছে যে, অয়ন শীলের এজেন্টদের মাধ্যমে গড়ে ৫০ হাজার টাকা কমিশনের বিনিময়ে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বহু মানুষ চাকরি পেয়েছেন। এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই এখন তদন্তে গতি বাড়িয়েছে ইডি।






