ক্ষমতায় এলেই বাংলায় ‘লাখপতি দিদি’! মা-বোনদের জন্য বাম্পার অফার বিজেপি প্রার্থীর
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা আর ব্রিজের টাকা চুরির অভিযোগ! দুর্গাপুরে প্রচারে বেরিয়ে বড় ধামাকা বিজেপির
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার সকালে আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শোকনা ও কেটেন গ্রামে জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার চালান। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পদযাত্রার সময় তিনি এলাকার মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রচারের ময়দান থেকে তিনি ঘোষণা করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কুড়িজনকে নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা হবে এবং প্রতিটি গোষ্ঠীকে কুড়ি লক্ষ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রতিটি সদস্যকে লাখপতি দিদি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি ক্যানালের ওপর ব্রিজ তৈরির নাম করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূল নেতারা। তৃণমূল জমানায় কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি বলে তোপ দেগে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই সরকারের আমলে কৌশিকী অমাবস্যার রাতে তারাপীঠে এক কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, আগামী দিনে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের নতুন দিশা খুঁজে পাবে।
বিজেপি প্রার্থীর এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও অভিযোগের পাল্টায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপি প্রার্থীরা নতুন করে ফের মিথ্যে আশার জাল বুনছেন, কিন্তু বাংলার মানুষ শুরু থেকেই তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
দুই শিবিরের এই বাদানুবাদে দুর্গাপুর পূর্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। বিজেপি প্রার্থী যখন দুর্নীতির ইস্যু ও আর্থিক সহায়তার কার্ড খেলছেন, তখন তৃণমূল শিবির কেন্দ্রীয় সরকারের পুরনো প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা আক্রমণ শানাচ্ছে। এলাকার ভোটারদের মন জয়ে কোন পক্ষের যুক্তি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তা ইভিএম বন্দি হওয়ার অপেক্ষায়।






