কলকাতা

AI দিয়ে রাজ চক্রবর্তীর গলা নকল করে টোপ! জালিয়াতদের পাতা ফাঁদে সর্বস্বান্ত বাঁশদ্রোণীর যুবক

হিরো হওয়ার সাধ মেটাতে গিয়ে সাইবার ফাঁদে পা! টলিউডের নামী প্রযোজনা সংস্থার ভুয়ো পেজ ঘিরে শোরগোল

Truth of Bengal: রুপোলি পর্দায় হিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে সাইবার জালিয়াতির ভয়াল ফাঁদে পা দিলেন এক যুবক। খোদ টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর গলার আওয়াজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে হুবহু নকল করে ওই যুবকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল চতুর সাইবার ঠগের দল। এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নামী প্রযোজনা সংস্থার নামে তৈরি করা পেজ দেখতে পান। সেখানে একটি ঐতিহাসিক পটভূমির সিনেমায় নতুন মুখ নেওয়ার কথা লেখা ছিল। আগ্রহী হয়ে যুবক ওই পেজে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, এটি খোদ পরিচালকের নম্বর। এরপর যুবক ফোন করলে উলটো দিক থেকে এক ব্যক্তি অত্যন্ত সাবলীলভাবে নিজেকে রাজ চক্রবর্তী বলে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে জানা যায়, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পরিচালকের গলা নকল করেই ওই ফোন কলটি করা হয়েছিল।

প্রথম দফায় নথিভুক্তকরণের বা এনরোলমেন্টের দোহাই দিয়ে যুবকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়, যা সুমিত কুমার নামে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর পুরো বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হোয়াটসঅ্যাপে প্রযোজনা সংস্থার ভুয়া লেটারহেড, সিলমোহরযুক্ত নথি এবং একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিপত্রও পাঠানো হয়। পরদিন ‘প্রোফাইল শুট’-এর নাম করে শুভজিৎ ও অজিতা নামের দুই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দুই দফায় আরও ৯২ হাজার টাকা ট্রান্সফার করায় প্রতারকরা।

এরপরের দিনই দ্বিতীয় দফার প্রোফাইল শুটের দোহাই দিয়ে ফের ৮৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং সরল বিশ্বাসে যুবক সেই টাকাও শুভজিতের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বারবার টাকার দাবি উঠতে থাকায় ওই যুবকের মনে সন্দেহ জাগে। পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করতেই সামনে আসে মারাত্মক সত্য, এআই দিয়ে পরিচালকের কণ্ঠস্বর বানিয়ে বড় মাপের এক সাইবার প্রতারণা চক্র ফাঁদ পেতেছিল। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Related Articles