আন্তর্জাতিক

শুরু হল সালমান রুশদির হামলাকারীর বিচার

Trial of Salman Rushdie attacker begins

Truth Of Bengal: ২০২২-এর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এক সভায় সালমান রুশদির উপর ছুরি নিয়ে আক্রমণ করেন এক ব্যক্তি। সেই আক্রমণের অভিঘাতে সাহিত্যিক একটি চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি খোয়ান। সোমবার নিউ ইয়র্কের এক কোর্টে সেই ব্যক্তি হাদি এম-এর শুনানি শুরু হয়েছে। ওই দিনের ছবি, ভিডিও ফুটেজ-সহ অন্যান্য প্রমাণ আদালতে জুরিদের সামনে তুলে ধরা হবে। আক্রমণকারী ২৪-বছরের হাদি এমকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং সেকেন্ড ডিগ্রি আক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও হাদি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। গত এক সপ্তাহে জুরি বাছাইয়ের কাজ চলেছে। আততায়ী সে সময় কোর্টে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করা হলে শুনানি এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আক্রমণের দুইবছর পরে এই প্রথম তাঁর আততায়ীর মুখোমুখি হতে পারেন রুশদি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার দিন রুশদি যখন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তখন হঠাৎ আক্রমণকারী এগিয়ে আসেন এবং বেপরোয়া ছুরি চালান সাহিত্যিকের ঘাড়ে, পেটে। তাঁকে থামাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পুলিশকেও। এরপর রক্তাক্ত রুশদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচার চলে। এই আক্রমণে এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি খোয়ান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক। অভ্যন্তরীণ আঘাতের পাশাপাশি একটি হাতও পাকাপাকি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

চিকিৎসার কারণে বহুদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও পরবর্তীকালে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফিরতে দেখা যায় রুশদিকে। এই আক্রমণের অভিজ্ঞতাকে জড়ো করে রুশদি লেখেন ‘নাইফ: মেডিটেশন আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’। ২০২৪-এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয় সেই বই।

দীর্ঘকাল ধরেই রুশদিকে ফতোয়া বাঁচিয়ে চলতে হয়। ১৯৮৯-তে ইরানের আয়তোল্লা রূহোল্লা খোমেনি তাঁর নামে ফতোয়া জারি করেন। লেখকের উপন্যাস স্যাটানিক ভার্সেসকে ‘ব্লাসফেমাস’ বলে অভিহিত করেন ইরানের নেতৃত্ব। একাধিক প্রাণনাশের হুমকির পর আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন সাহিত্যিক। এমনকি তাঁর নিজের দেশেও স্যাটানিক ভার্সেসকে ১৯৮৮-তে নিষিদ্ধ করে রাজীব গান্ধি সরকার। গতবছর নভেম্বরে দিল্লির একটি আদালত বইটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, সরকার আদালতের কাছে ১৯৮৮-এর নিষেধাজ্ঞাটি পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় পর বইটির ভারতে আবার বিক্রি শুরু হয়।

Related Articles