গ্রিনল্যান্ডে আরও সামরিক বিমান পাঠাচ্ছে আমেরিকা, বাড়ছে উত্তেজনা
তারা শুধু জানিয়েছে যে, তাদের সামরিক বিমানগুলো শীঘ্রই ‘পিটুফিক স্পেস বেস’-এ পৌঁছাবে এবং এই কার্যক্রম পূর্বপরিকল্পিত।
Truth Of Bengal: নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) ঘোষণা করেছে যে, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের পিতুফিকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে শীঘ্রই আরও সামরিক বিমান পাঠানো হবে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ‘দখলের’ প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ডেনমার্কের শাসনাধীন গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই মার্কিন ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন রয়েছে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নোরাডের সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নোরাড এই সিদ্ধান্তের কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি। তারা শুধু জানিয়েছে যে, তাদের সামরিক বিমানগুলো শীঘ্রই ‘পিটুফিক স্পেস বেস’-এ পৌঁছাবে এবং এই কার্যক্রম পূর্বপরিকল্পিত। ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন নিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে, এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনকেও আগাম জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে নোরাড। তবে সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম হবে বা এর পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, ফলে রহস্য বজায় আছে।
এর আগে ২০২২, ২০২৩ এবং গত বছরেও নোরাড পিতুফিক ঘাঁটিতে সামরিক কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি আলাদা, কারণ ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ডেনমার্কসহ আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক চাপিয়ে তাদের সমর্থন না-চাওয়া ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। এর জবাবে ডেনমার্ক বারবার জানিয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে গেলে প্রথমে ডেনমার্কের সেনা গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে।
গত কয়েক দিন ধরে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করছে এবং সোমবারও নতুন বাহিনী পাঠানো হয়েছে। ডেনমার্কের ডিফেন্স কমান্ড সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, যেখানে দুইটি সামরিক বিমান থেকে সৈন্যদের নামতে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নোরাডের সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড যদিও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বাইরে, তবুও এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে। প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্ক এই দ্বীপের ওপর শাসন বজায় রেখেছে। গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় ও উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে, তবে বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক সরকার।






