প্রেমহীন জীবনে বাড়ছে রোগব্যাধি! তরুণ প্রজন্মের একাকীত্ব নিয়ে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শোনালেন গবেষকরা
২০,০০০ মানুষের ওপর চালানো একটি জাতীয় সমীক্ষায় এই প্রজন্মকে এমনকি মিলিনিয়ালদের চেয়েও ‘সবচেয়ে একাকী প্রজন্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Truth Of Bengal: আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, জেন-জি (Gen Z) বা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে কিশোর বয়সে প্রেমের সম্পর্কে থাকার হার পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর (জেন-এক্স বা বেবি বুমার) তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ কম। আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ অ্যান্ড মেন-এর ২০২৫ সালের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, গত বছর জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষই স্বীকার করেছেন যে কিশোর বয়সে তাদের কোনো প্রেমের অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০,০০০ মানুষের ওপর চালানো একটি জাতীয় সমীক্ষায় এই প্রজন্মকে এমনকি মিলিনিয়ালদের চেয়েও ‘সবচেয়ে একাকী প্রজন্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের ১৭,০০০-এর বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর করা একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে একা বা সিঙ্গেল থাকেন, তাদের মধ্যে একাকীত্ব এবং জীবন নিয়ে অসন্তোষ তীব্রতর হয়। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ জুরিখের গবেষকদের মতে, ২০ বছর বয়সের শেষের দিকে এই একাকীত্ব থেকে বিষণ্নতার লক্ষণগুলো বেশি প্রকাশ পায়। সিনিয়র গবেষক মাইকেল ক্রেমার জানিয়েছেন যে, তরুণ বয়সে দীর্ঘ সময় অবিবাহিত বা একা থাকা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে মাঝারি ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মজীবনে মনোযোগ দেওয়ার কারণে অনেক তরুণই এখন স্থায়ী সম্পর্কে জড়ানোকে পিছিয়ে দিচ্ছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, তরুণদের জীবনে প্রথম প্রেমের সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা প্রথমবার কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাদের মধ্যে একাকীত্ব কম এবং জীবনের প্রতি সন্তোষ অনেক বেশি দেখা গেছে। কিন্তু প্রথম সম্পর্কে জড়াতে মানুষ যত বেশি দেরি করছে, তাদের একাকী থাকার সময়কাল তত দীর্ঘ হচ্ছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই দীর্ঘমেয়াদী একাকীত্ব শরীরের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, এমনকি ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। একাকীত্বের ফলে মানুষ নিজের যত্ন নেওয়া কমিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বড় কোনো স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।


