আন্তর্জাতিক

কানাডায় সব আছে, কিন্তু শান্তি নেই! কেন ভারতে ফিরতে চান ৩০ বছরের সফল এই তরুণী?

সব মিলিয়ে জীবন খারাপ নয় বলেই তাঁর দাবি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মানসিকভাবে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করছেন।

Truth of Bengal: কানাডায় বসবাসকারী এক অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) নারীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তিরিশোর্ধ্ব ওই নারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন কানাডায় থাকার পরও তিনি নিজেকে ক্রমশ ‘বিচ্ছিন্ন’ অনুভব করছেন এবং ভারত ফিরে আসার কথা ভাবছেন। রেডিটে করা একটি পোস্টে ওই নারী লেখেন, তিনি শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন ভারতে। পরিবারের সঙ্গে কিশোরী বয়সে কানাডায় পাড়ি দেন। সেখানেই পড়াশোনা শেষ করেছেন, গড়ে তুলেছেন পেশাগত জীবন। সব মিলিয়ে জীবন খারাপ নয় বলেই তাঁর দাবি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মানসিকভাবে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করছেন।

পোস্টে তিনি জানান, স্থায়ী চাকরি রয়েছে, আয়ও ভালো। কিন্তু তবুও কানাডার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মেলাতে পারছেন না। তাঁর কথায়, বহু পেশাগত সম্পর্কই তাঁর কাছে কৃত্রিম বা উপরিভাগের বলে মনে হয়। পাশাপাশি, বন্ধুদের অনেকেই বিয়ে করে পারিবারিক জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নতুন করে সমমনস্ক বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষিতেই তিনি ভাবছেন, ভারতে ফিরে গেলে হয়তো নিজের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সেই সংযোগবোধ ফিরে পেতে পারেন। উত্তর ভারতের একটি অঞ্চলে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই সংস্কৃতির কাছাকাছি থাকলে মানসিক স্বস্তি মিলতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে কিছু দ্বিধার কথাও তুলে ধরেছেন ওই এনআরআই নারী। বিশেষ করে, ভারতে অবিবাহিত নারীদের সামাজিক অবস্থান ও এখনও প্রচলিত পারিবারিক কাঠামো নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। তাই তিনি এমন মানুষদের পরামর্শ চেয়েছেন, যাঁরা জীবনের এমন দ্বিধাবিভক্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন বা একই ধরনের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই নানা মতামত উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভারতে এসে ‘ট্রায়াল রান’ করে দেখতে। কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পছন্দের কোনও শহরে থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

অন্যদিকে, কেউ কেউ স্পষ্টভাবে ভারত ফেরার ভাবনাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। এক জনের মন্তব্য, বর্তমানে যা রয়েছে তার মূল্য তিনি বুঝতে পারছেন না। বরং নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল আছে এমন বন্ধু খোঁজা বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আর এক ব্যবহারকারীর মতে, এই ধরনের ভাবনা অনেক সময় ‘ঘাস সবুজ দেখানোর’ মানসিকতা থেকে আসে। তাঁর বক্তব্য, জীবন সর্বত্রই কঠিন। তাই যে দেশে এখন আছেন, সেখানে স্বাধীন, নিরাপদ ও আইনের শাসনে থাকা জীবনকে উপভোগ করার পথ খুঁজে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বাকি সব বিভ্রান্তি ও মোহমাত্র।