বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছে বাংলাদেশ, বাঘ গা ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেবে না তো!
Bangladesh rode on the back of the tiger

Truth of Bengal, জয়ন্ত চক্রবর্তী: বাংলাদেশ থেকে দুর্গাপুজোর প্রতিমা এবং মণ্ডপ ভাঙার খবর আসছে। এই খবরও আসছে যে সে দেশে নতুন করে কোনও দুর্গাপুজোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। পুরনো এবং সাবেক পুজোগুলিকেও নিয়ন্ত্রণের নিগড়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। বছর দুই-তিনেক আগে এমন এক দুর্গাপুজোতেই কুমিল্লার এক মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পায়ের তলায় কোরান শরিফ রাখা নিয়ে বাংলাদেশে যে তাণ্ডব চলেছিল, তা এখনও দগদগে ঘায়ের মতো স্মৃতিতে বিরাজমান।
এবারও কুমিল্লায় ইতিমধ্যে মূর্তি ভাঙার খবর এসেছে। বাংলাদেশ প্রশাসন সচকিত দুর্গাপুজো নিয়ে। সংখ্যালঘু হিন্দুরা (পড়ুন বাঙালিরা) ভয়-তরাসে দিন কাটাচ্ছে– পুজোর সময় তারা না আক্রান্ত হয়! ইতিমধ্যেই মৌলবাদীরা তাণ্ডবের লাঠি ঘোরানো শুরু করেছে যে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে অশান্তি হবেই। হাসিনা সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিল, আওয়ামী লিগ যতদিন সরকারে ছিল হিন্দুরা অন্তত শ্বাস নিতে পারতো এই ভেবে যে তাদের রক্ষাকবচ হতে পারেন হাসিনা, তাদের দুর্গ হতে পারে সরকার।
কিন্তু শেখ হাসিনা প্রবল বিক্ষোভে গত পাঁচ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, আওয়ামী লিগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তীব্র ভারত বিরোধিতা বাংলাদেশকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সংখ্যালঘু হিন্দুরা বিপন্ন। বাংলাদেশ বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছে এখন বাঘ না তাকে গা ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেয়!
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত না থাকলে যে পাকিস্তানের আগ্রাসী মানসিকতা থেকে বাংলাদেশ যে বাঁচতো না— এই ঐতিহাসিক সত্য থেকে বাংলাদেশের নবপ্রজন্মকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে মৌলবাদীরা (পড়ুন জামাত-ই-ইসলামি )। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে যে ভারত নিজেদের স্বার্থেই সেদিন বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এই প্রজন্মের যুবরা বরং পাকিস্তানের মৈত্রী বাঞ্চনীয় মনে করে ভারতের বন্ধুত্ব বাদ দিয়ে।
ধীরে ধীরে মৌলবাদীরা সারা দেশে এই বিষের বাষ্প ছড়াতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের প্রতি অনুগত্য হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম হাতিয়ার। এই অবস্থায় ভারত বিরোধী জিগির এখন বাংলাদেশের সর্বত্র। সামনেই দুর্গাপুজো। বাঙালি হিন্দুদের বড় উৎসব। মৌলবাদীরা এই মওকা ছাড়তে রাজি নয়। তাই, বাংলাদেশে আজ দুর্গাপুজো বিপন্ন। কেয়ারটেকার সরকারও ভয় পাচ্ছে দুর্গাপুজো উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক হিংসা না আবার ছড়ায়।
তাই নতুন করে কোনও পুজোর অনুমোদন তারা দিচ্ছে না। দুর্গাপুজোয় নানা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হয়েছে। আগে সংখ্যালঘুরা জানতো মাথার ওপর হাসিনা সরকারের হাত আছে, মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই বরাভয়ের হাত সরিয়ে নিয়েছে। এবার দুর্গাপুজোয় বাংলাদেশের হিন্দুরা তাই আশঙ্কার শ্বাস ফেলছে। এই আশঙ্কা রক্তক্ষরণের, নতুন ইহুদি হওয়ার ভয় কিংবা তরাস। যে দেশ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সঙ্গীত মুছে ফেলতে চায়, জাতির পিতা মুজিবর রহমানের মূর্তি ভাঙচুর করে তাকে বিশ্বাস কী!






