দেশ

পড়াশোনার চাপ সাথে লক্ষ টাকার ফি-র বোঝা, হস্টেলে মেধাবী ছাত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি!

পুলিশ ও হস্টেল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে দীর্ঘক্ষণ প্রিন্সির ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।

Truth Of Bengal: ছত্তীসগঢ়ের রায়গড় জেলার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে উদ্ধার হলো দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। মৃত ছাত্রীর নাম প্রিন্সি কুমারী (২১)। তিনি ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ এবং পরিবারের আর্থিক দুশ্চিন্তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ওই মেধাবী ছাত্রী।

পুলিশ ও হস্টেল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে দীর্ঘক্ষণ প্রিন্সির ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এর আগে সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবার হস্টেল ওয়ার্ডেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রিন্সির ঘরে গিয়ে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই প্রিন্সিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে পুঞ্জিপাথরা থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ ওই ছাত্রীর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। আবেগঘন সেই চিঠিতে প্রিন্সি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, “সরি মাম্মি-পাপা, আমি তোমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলাম না।” তদন্তে জানা গেছে, প্রথম সেমিস্টারে পাঁচটি বিষয়ে ‘ব্যাকলগ’ থাকায় চরম মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। সেই পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতির পাশাপাশি দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মানসিক চাপের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর অপরাধবোধে ভুগছিলেন প্রিন্সি। সুইসাইড নোটে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পড়াশোনার জন্য পরিবারের জমানো টাকা খরচ হওয়া এবং ঋণের বোঝা তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সম্প্রতি সেমেস্টার ফি বাবদ প্রায় এক লক্ষ টাকা কিস্তিতে দেওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি। নিজের ব্যর্থতা এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রবিবার ময়নাতদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ও হস্টেলের আবাসিকদের বয়ান রেকর্ড করছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।