দেশ

উদ্ধব শিবিরে বড় ভাঙন, শিণ্ডে সেনায় যোগ দিতে স্পিকারের দ্বারস্থ ৬ সাংসদ

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পৃথক চার্টার্ড বিমানে করে ওই সাংসদরা দিল্লিতে পৌঁছন।

Truth of Bengal: দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনা (ইউবিটি)। দলের ছয় জন লোকসভা সাংসদ একযোগে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিব সেনার সঙ্গে মিশে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পৃথক চার্টার্ড বিমানে করে ওই সাংসদরা দিল্লিতে পৌঁছন। সেখানে প্রথমে একনাথ শিণ্ডের পুত্র ও সাংসদ শ্রীকান্ত শিণ্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। পরে একনাথ শিণ্ডের সঙ্গেও তাঁদের আলোচনা হয়। এরপরই যৌথভাবে স্বাক্ষরিত চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

শিণ্ডে শিবিরে যোগদানের আবেদনকারী সাংসদরা হলেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব। তাঁরা দাবি করেছেন, দলের ৯ জন সাংসদের মধ্যে ৬ জনই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছেন। ফলে দলত্যাগবিরোধী আইনের নিরিখে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন তাঁদের রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই উদ্ধব শিবিরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে ছিল। সম্প্রতি উদ্ধব ঠাকরে দলের সাংসদদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকলেও ওই ছয় জন সাংসদের অধিকাংশই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি আদিত্য ঠাকরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও তাঁদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছিল।

বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, উদ্ধব ঠাকরে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। সেই কারণেই তাঁরা ‘আসল শিব সেনার আদর্শ’ রক্ষার স্বার্থে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে উদ্ধব শিবির। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সাংসদদের শোকজ নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কেন তাঁরা শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এখন নজর স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের দিকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি স্পিকার বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি মেনে নেন, তবে তা উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হবে এবং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা করতে পারে।

 

Related Articles