দেশ

কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি-কাণ্ডে খান স্যরকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ আদালতের

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, খান স্যরের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও বলপূর্বক পদক্ষেপ করা যাবে না

Truth of Bengal: কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চলার ঘটনায় আপাতত গ্রেফতারি থেকে স্বস্তি পেলেন পটনার জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যর। মঙ্গলবার পটনা জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই খান স্যরকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তবে স্বস্তি মিললেও তদন্ত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না খান স্যর। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তকারীদের সব রকম সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, খান স্যরের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও বলপূর্বক পদক্ষেপ করা যাবে না।

সূত্রের খবর, শুনানির সময় আদালত পুলিশকে ঘটনার কেস ডায়েরি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলার আর এক অভিযুক্ত তথা খান স্যরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ কোচিং সেন্টারের মালিক রোশন আনন্দের জামিন হবে কি না, সে বিষয়ে রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে আদালত। প্রসঙ্গত, গত ২ জুন খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ। কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের পাশাপাশি ইট-পাথর ছোড়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পটনা। হামলার পরের দিন খান স্যরের কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় কদমকুঁয়া থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। খান স্যরের অভিযোগ, তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলার নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিক রোশন আনন্দ। পটনার কিসান কোল্ড স্টোরেজ এলাকা বিহারের অন্যতম পরিচিত কোচিং হাব। মুসল্লাপুরের এই এলাকায় ২০১৮-১৯ সাল থেকে ২০টিরও বেশি কোচিং সেন্টার চলছে। এখানেই রয়েছে খান স্যর এবং রোশন স্যরের কোচিং সেন্টার। কোভিডের সময় বহু কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলেও এই দুই শিক্ষকের প্রতিষ্ঠান চালু ছিল এবং জনপ্রিয়তাও পায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, খান স্যর ও রোশন আনন্দের মধ্যে টানাপড়েন নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই পুরনো দ্বন্দ্বের জেরেই কোচিং সেন্টারে হামলা এবং পরবর্তী গুলি চলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।