৩০ বছর পরেও সামাজিক উন্নয়নে কেন্দ্রের খরচ বৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ
Even after 30 years, the increase in central spending on social development is only 1 percent

Truth Of Bengal: জয় চক্রবর্তী: ফেব্রুয়ারি মাসের পয়লা তারিখে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কিন্তু তার আগে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসি’র এক রিপোর্টে। সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ সামান্যই। মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে খরচ দেশের জিডিপির ৪ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং এর সময় অর্থাৎ ১৯৯০-৯১ সালে মোট জিডিপির ৫.৮ শতাংশ অর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হতো। বর্তমান সরকারের আমলে এই শতাংশের প্রায় হেরফের হয়নি। ২০১৯-২০ সালের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের মোট জিডিপির ৬.৮ শতাংশ অর্থই খরচ করা হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধির পরিমাণ এক বিন্দু মানে এক শতাংশ।
বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সময়ে সামাজিক উন্নয়নের সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে। কিন্তু প্রচারের সঙ্গে বাস্তবের বাস্তবতা থাকে না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসি’র রিপোর্টে সেই ছবিটাই ফুটে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন, সরকার কখনো কর্পোরেট ভাবে চলতে পারে না। বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামতও তাই।
আমজনতার ভোটে জিতে তাদের কথা ভুলে যাওয়া মানুষ ভালোভাবে নেন না। অন্যদিকে সাধারণভাবে যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দিকে তাকানো যায় তাহলে দেখা যায় সামাজিক উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তবায়ন করেছেন। ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে দুয়ারে সরকার। ৩৭ টি প্রকল্প আমজনতার কাছে যাতে পৌঁছায় তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দুয়ারে সরকার। চলবে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ সফর করেছেন।
মুর্শিদাবাদের মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু প্রকল্প করে কিন্তু মাঝপথে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেই প্রকল্পের দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেয়। দেখা গেছে বেশ কিছু প্রকল্প রাজ্য সরকার নিজের অর্থেই চালু রেখেছে। মুর্শিদাবাদের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণাও করেছেন, আগামী সময় সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রকল্প করবেন। আর উল্টোদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সামাজিক উন্নয়নে খরচের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক কমিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ।
কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের পূর্বাভাস, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে আটকে যাবে। সাধারণ মানুষের সব থেকে বড় চাহিদার জায়গা আয়করের সীমা। কিন্তু এর পাশাপাশি দেশের জিডিপির হার সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের চিন্তা। কারণ সেগুলোর ওপর দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা রক্ষা পায়। তার অন্যতম দিক সামাজিক উন্নয়ন। শুধুমাত্র সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টাই নয়, রিপোর্টে উঠে এসেছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য।
১৯৯০-৯১ তে শিক্ষা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে মোট জিডিপির ২.৯৭ শতাংশ খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ তে কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে খরচ করেছে মোট জিডিপির ২.৮৮ শতাংশ। কিছুদিন আগেই প্রাক বাজেট বৈঠক ছিল রাজস্থানে। সেখানে দেশের সমস্ত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রাক বৈঠকে বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে।
এমনকি করের টাকা তুলে নিয়ে গেলেও সঠিক সময়ে সেই ভাগ দেওয়া হয় না এমন অভিযোগও মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার করেছেন। কেন্দ্রীয় বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আদৌও মোট জিডিপির শতাংশের বিচারের বেশি খরচ করা হবে? নবান্নের অর্থ দফতরের এক শীর্ষ কর্তার মতে, ‘এমন আশা করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে রাজ্য সামাজিক উন্নয়নের অভিমান অনেকটাই বেশি। আর সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেকটাই নির্ভর করছেন এই সরকারের ওপর।’


