দেশ

Cyclone Montha: ধেয়ে আসছে ‘মোন্থা’, মঙ্গলবার রাতেই ল্যান্ডফল! অন্ধ্রপ্রদেশের ৯ জেলায় জারি লাল সতর্কতা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতেই অন্ধ্রের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝখানে কাকিনাড়ায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়।

Truth of Bengal: বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ রবিবার রাতেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ‘মোন্থা’  নামের এই ঘূর্ণিঝড় ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতেই অন্ধ্রের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝখানে কাকিনাড়ায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়।এই আশঙ্কা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং তামিলনাড়ু— তিন রাজ্যেই জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশের নয়টি জেলায় ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলি হল — কাকিনাড়া, কোনা সীমা, পশ্চিম গোদাবরী, এলুরু, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপাতলা, প্রকাশম এবং এসপিএসআর নেলোর।

সতর্কতার কারণে সোমবার থেকে পরবর্তী দু’দিন এই জেলাগুলির সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র গতি ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, আর দমকা হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে।ঘূর্ণিঝড়ের সর্বাধিক অভিঘাত পড়বে অন্ধ্রপ্রদেশে, তবে এর প্রভাব থেকে রেহাই মিলবে না ওড়িশারও। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে দক্ষিণ ওড়িশার আটটি জেলায়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় নামানো হয়েছে ১২৮টি দল। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পুজারী জানিয়েছেন, দক্ষিণ ওড়িশার পাহাড়ি ও নিচু অঞ্চলগুলিতে প্রভাব পড়তে পারে। বিকেল পাঁচটার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির সমস্ত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হবে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।এদিকে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও সোমবার ও মঙ্গলবারের জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। চেন্নাইসহ বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। বাংলাতেও পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাব। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় আগামী দু’দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও থাকতে পারে দুর্যোগের সম্ভাবনা। তবে আপাতত তাপমাত্রায় কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের পর উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ সোমবার রাতের মধ্যে আরও শক্তি বাড়িয়ে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়। ফলে উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে এখন তীব্র সতর্কতা ও প্রস্তুতি তুঙ্গে।

Related Articles