দেশ

‘ভোটগণনার ফুটেজই গায়েব?’ সুপ্রিম কোর্টে তুমুল ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন!

স্পষ্ট ভাষায় বিচারপতিরা জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের অজুহাত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীনগেরি কেন্দ্রের ভোটগণনা ও পুনর্গণনার ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছিল আদালতের তরফে। কিন্তু সেই ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কমিশন জানানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট ভাষায় বিচারপতিরা জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের অজুহাত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের কাছে থাকা সমস্ত ফুটেজ পরবর্তী শুনানির আগে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে। শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে জয়ী ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেন বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ। এরপর পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হলে দ্বিতীয়বার গণনার পর ২০১ ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফল নিয়েই শুরু হয় নতুন আইনি লড়াই।

এরপর কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়া পুনর্গণনার ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গণনা এবং পুনর্গণনা—দুই পর্বেরই ভিডিও ফুটেজ, পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট দেখতে চেয়ে আবেদন জানান তিনি। মামলাটির শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চের সামনে মূল গণনার ভিডিও রেকর্ডিংয়ের প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, সেই ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বক্তব্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, যে সংস্থার প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন পরিচালনা করা, তাদের কাছেই কীভাবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যেতে পারে? আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে কমিশনের কাছে থাকা সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি ও ফুটেজ পেশ করতে হবে। তা না হলে কমিশনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।

এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। ফলে শ্রীনগেরি কেন্দ্রের ভোটগণনা সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর। একই সঙ্গে নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার নথি সংরক্ষণ এবং নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Related Articles