দেশ

জয়পুরে হাইভোল্টেজ তারের ধাক্কায় বাসে আগুন, নিহত ২

ভিতরে থাকা শ্রমিকরা আটকে পড়েন, তাঁদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্যোগ নেন।

Truth Of Bengal: রাজস্থানে ফের ভয়াবহ বাস অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার সকালে জয়পুর জেলার মনোহরপুরে যাত্রীবোঝাই এক বাসে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আহত হয়েছেন বহু শ্রমিক, যাঁদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটভাটার শ্রমিকদের নিয়ে টোড়ি গ্রামে যাচ্ছিল বাসটি। পথিমধ্যে গ্রামের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি ১১ হাজার কিলোভোল্টের হাইভোল্টেজ তার বাসটির ছাদে ছিঁড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায় পুরো বাসে। ভিতরে থাকা শ্রমিকরা আটকে পড়েন, তাঁদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্যোগ নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকল ও পুলিশ পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় নাসিম (৫০) এবং তাঁর মেয়ে শাহিনম (২০)-এর। আহত অন্তত নয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে জয়পুরের সাওয়াই মান সিং হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি চারজনের চিকিৎসা চলছে শাহপুরা উপজেলা হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা—নাজমা, সিতারা এবং নাহিম, আর দুই পুরুষ আজার ও আলতাফ।

দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটির ছাদে অতিরিক্ত মালপত্র বহন করা হচ্ছিল, যার মধ্যে ছিল ১৫টি এলপিজি সিলিন্ডার ও একটি মোটরবাইক। প্রাথমিকভাবে অনুমান, হাইভোল্টেজ তার ছিঁড়ে পড়ার পর ওই সিলিন্ডারগুলির মধ্যে দু’টি বিস্ফোরণ হয়, আর তাতেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীদের দাবি, সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা অন্তত ২৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।জয়পুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) জানিয়েছেন, বাসটি তার ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ও পণ্য নিয়ে চলছিল।

বাসের ছাদে থাকা পণ্যই তারে আঘাত করে আগুনের সূত্রপাত ঘটায়। দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। পাশাপাশি তিনি রাজ্যে ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই রাজস্থানের জৈসলমের জেলায় আরেক ভয়াবহ বাস অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও বাসের ভিতরে আটকে গিয়ে ঝলসে যান যাত্রীরা। ফলে রাজ্যে পরপর দুই মর্মান্তিক বাস অগ্নিকাণ্ডে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

Related Articles