দেশ

Bihar NDA Government: সরকার গঠনের আগেই তীব্র সংঘাত! বিহারে স্পিকার পদ নিয়ে বিজেপি-জেডিইউ-এর চরম টানাপোড়েন

বিজেপি চাইছে স্পিকারের পদ নিজেদের কাছেই রাখতে।

Truth of Bengal: বিহারে নতুন এনডিএ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও মন্ত্রিসভা বণ্টন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভার স্পিকার পদ নিয়ে বিজেপি (BJP) এবং জেডিইউ (JDU)—উভয় দলের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি কোনো দলই হাতছাড়া করতে রাজি নয়, যার ফলে দু’পক্ষের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম অনমনীয়তা। আগামী ২০ নভেম্বর পাটনার গান্ধী ময়দানে নতুন এনডিএ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। এর আগে, মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং বিজেপির মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে প্রধানত স্পিকার পদ এবং মন্ত্রী পদ বণ্টন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিজেপি চাইছে স্পিকারের পদ নিজেদের কাছেই রাখতে। অন্যদিকে, জেডিইউ-এর নরেন্দ্র নারায়ণ যাদবও বর্তমানে এই পদে থাকায় তা ছাড়তে চাইছেন না। জানা গিয়েছে, স্পিকার পদ ছাড়াও, রাজ্যের সরকারের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে দু’দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক চলছে। এই বিষয়ে নিজেদের কৌশল ঠিক করতে রাজ্য বিজেপি-র নেতারা সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত পাটনায় আলোচনা করেছেন। জেডিইউ-এর পক্ষ থেকে সঞ্জয় কুমার ঝা এবং লালন সিং-সহ বেশ কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার দিল্লিতে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন।

এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জোটের ছোট শরিক দলগুলির সঙ্গে কথা বলে তাদের ভূমিকা চূড়ান্ত করেছেন। এই শরিক দলগুলি হলো চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), জিতন রাম মানঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেকুলার), এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি। সূত্রের খবর, এই তিনটি শরিক দলের সঙ্গেই ইতিমধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে নতুন সরকারে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।

সোমবার থেকেই বিহারে নতুন এনডিএ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের সঙ্গে দেখা করে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন, যা বুধবার থেকে কার্যকর হবে।সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট মোট ২০২টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজেপি: ৮৯টি আসন (একক বৃহত্তম দল)। জেডিইউ: ৮৫টি আসন। ছোট শরিক দল: চিরাগ পাসওয়ানের দল ১৯টি, জিতন রাম মানঝির দল ৫টি এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল ৪টি আসন পেয়েছে।

অন্যদিকে, মহাগঠবন্ধন জোট মাত্র ৩৪টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও স্পিকার পদ নিয়ে দুই প্রধান শরিকের মধ্যে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা সরকারের মসৃণ পথচলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles