নিজের নামেই নিজে পাঠালেন নোটিশ! এবার সস্ত্রীক SIR শুনানির লাইনে খোদ বিএলও
দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
Truth Of Bengal: স্কুলশিক্ষক এবং বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় প্রতিদিনের মতোই দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে কাজে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় নিশ্চিন্তে ভাতঘুম দিচ্ছিলেন স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। শান্ত দুপুরের সেই ছন্দ হঠাৎই ভেঙে যায়। হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ফিরে স্বামী প্রথমেই স্ত্রীর হাতে তুলে দেন একটি এসআইআর শুনানির নোটিস। বিস্ময়ের শেষ না হতেই তিনি জানান, নিজেও একই নোটিস পেয়েছেন। হতভম্ব অনিন্দিতা কিছুক্ষণ চুপ করে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। গম্ভীর মুখে দেবশঙ্কর জানান—এটাই বাস্তব। এবার সস্ত্রীক বিএলওকেই শুনানিতে ডাকেছে নির্বাচন কমিশন।
ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের। দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি ওই এলাকার ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে এসআইআর প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁর পৈতৃক ভিটে কোড়োলা গ্রামে হলেও বহুদিন ধরে কাটোয়া শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গী এলাকায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।
স্বামী-স্ত্রীর দু’জনেরই এসআইআর শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। অনিন্দিতার প্রথম প্রতিক্রিয়াই বিষয়টির তাৎপর্য তুলে ধরে। তিনি বলেন, “নোটিসে লেখা রয়েছে, কোনও প্রশ্ন থাকলে বিএলও-কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। অথচ আমার স্বামীই এই বুথের বিএলও। অথচ নোটিস তো তিনিও পেয়েছেন।”
এই প্রসঙ্গে দেবশঙ্কর জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে নোটিস এসেছে। তাই নিয়ম মেনেই শুনানিতে হাজির থাকতে হবে তাঁদের দু’জনকেই। তাঁর কথায়, “আর পাঁচজন ভোটারের মতো আমরাও লাইনে দাঁড়াব। এখানে আলাদা কোনও সুবিধা নেই।”
গোলমালটি কোথায় হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেবশঙ্কর জানান, তাঁর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের বানান সঠিক থাকলেও এবার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণে পদবির বানানে গরমিল ধরা পড়েছে। সেই কারণেই তাঁর নামে শুনানির নোটিস এসেছে। অন্যদিকে, অনিন্দিতার বাপের বাড়ি নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার মাঝেরগ্রামে। তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়। একই ধরনের যুক্তিগত গরমিলের ফলে বাবা-মেয়ের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর দেখানো হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর নামেও নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন।
দেবশঙ্কর জানান, যে বুথের তিনি দায়িত্বে রয়েছেন, সেখানে মোট ভোটার ৭১২ জন। প্রথম পর্যায়ে ৭ জনের শুনানি হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬২ জন ভোটারের নামে শুনানির নোটিস গিয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামও রয়েছে। তাঁর দাবি, “এগুলো সবই এআই-এর কারণে তৈরি হওয়া ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আমাকে কাজ করতেই হবে। নিজের পরিবার বলে এখানে আলাদা কিছু নয়। সবাই সমান।”
পাশে বসে অনিন্দিতাও বলেন, “প্রথমে খুব অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু এটা তো আমার স্বামীর দায়িত্বের অংশ। তাই স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই শুনানির লাইনে দাঁড়াব।”






