বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে? শেখ হাসিনা না তত্ত্বাবধায়ক উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রধান মহম্মদ ইউনুস!
Who is the Prime Minister of Bangladesh? Sheikh Hasina or the head of the Supervisory Advisory Board, Muhammad Yunus

Truth of Bengal,জয়ন্ত চক্রবর্তী: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিজয় বার্তা ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি পট পরিবর্তন হয়ে গেল? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এর আওয়ামী লিগ এর সদর দফতর থেকে প্রকাশিত শেখ হাসিনার একটি অভিনন্দন বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কাছে পৌঁছেছে। এই অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা নিজেকে আওয়ামী লিগ এর প্রেসিডেন্ট বলে জানিয়েছেন।
সেই সঙ্গে ব্রাকেট এ তিনি যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেই কথাও ট্রাম্পকে পাঠানো এই অভিনন্দন বার্তায় আছে। শেখ হাসিনা তুমুল গণ বিক্ষোভ বাংলাদেশ ছেড়ে গত পাঁচ অগাস্ট ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার আগে ত্যিনি তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে এসেছিলেন — আওয়ামী লিগের অধিকাংশ সদস্য তা বিশ্বাস করেন না। তাঁদের সেই ধারনা আরও জোরদার হল শেখ হাসিনার ট্রাম্পকে পাঠানো এই বিজয় বার্তায়।
বার্তাটিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতা দখলের পড়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প এর সাক্ষাৎকারের সুখস্মৃতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এবং এই বার্তায় শেখ হাসিনাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনুসকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে বাংলাদেশ আপাতত চলছে।
শেখ হাসিনার এই বার্তা কি রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট নয়? বাংলাদেশে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দখল নেওয়ার জন্যে ডেমোক্রাট জো বাইডেন সরকারের আকুতি ও হাসিনার দ্বীপ না দিতে চাওয়ার পরিণতিতেই সি আই এর নেতৃত্বে পাকিস্তানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণ বিদ্রোহ হয় এবং তুমুল বিক্ষোভ এ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন – এই কথা এখন অধিকাংশ বাংলাদেশিও বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছে।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সম্পর্কে আমেরিমার মনোভাবের বদল হবে – এটাও একটি ধারণা। এই অবস্থায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার এই বার্তাকে গভীর ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিরা। মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে তিনি মৌলবাদী ও পাকিস্তানপন্থী জামাত ই ইসলাম এর হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন তা পছন্দ করছে না গড়পরতা বাংলাদশি।
সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট যদি বিশ্বাস করতে হয় তাহলে মৌলবাদী জামাতকে আটকাতে মিলিত সংগ্রাম করতে চাইছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ এবং খালেদা জিয়ার বিএনপি। লন্ডনে খালেদা পুত্র তারেক রহমান এবং আমেরিকায় অবস্থিত হাসিনা পুত্র জয় ওয়াজেদ এরও নাকি আপত্তি নেই দেশের মৌলবাদ ঠেকাতে এই আন্দোলনের। বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠানো এই বার্তাটি কি গভীর অর্থবহ নয়!






