সম্পাদকীয়

Christmas History: যিশুর জন্ম কি আদেও ২৫শে ডিসেম্বর? বাইবেলে যা নেই, তা নিয়ে কেন মাতোয়ারা বিশ্ব?

সুপ্রভাত লাহিড়ী: ২৫শে ডিসেম্বর মহাধুমধামে পালিত হল যিশুর জন্মদিন। অথচ যিশুর কবে জন্ম হয়েছিল তার সঠিক প্রমাণ কিন্তু আমাদের হাতে নেই। ‘বাইবেল’-এ এ নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। তবুও এই দিন সান্তাক্লজ, কেক, কমলালেবু, কুকিজ, রঙ বেরঙের পোশাকের উৎসব। বিশেষত বড়দিন মানেই কেক। নামী দামি দোকান বা অলি গলি, সব জায়গাতেই সাজানো থাকে নানা ধরনের কেকের সম্ভার। স্বাদে ও গন্ধে যা অতুলনীয়। একটা সময় ছিল যখন বাঙালি ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাত, কবে ডিসেম্বর আসবে। নলেন গুড়ের পাশাপাশি কেক-পেস্ট্রির আস্বাদ নিতে। আর এখন তো প্রায় সারাবছরই মেলে ওই দুই মনভরানো খাবার। তবে ভরা শীতেই এর আমেজ বেশি করে অনুভূত এবং উপভোগ্য হয়।

তথ্য অনুযায়ী আনুমানিক ৪০০ খিস্টাব্দে পোপ সেন্ট জুলিয়াস-১ নামে একজন রোমান ধর্মযাজক ২৫ ডিসেম্বর দিনটিকে যিশুর জন্মদিন হিসাবে পালন করার কথা ঘোষণা করেন। এটা সত্য যে বাইবেলে নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে যিশু কবে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। তবুও নানা ধারণা, নানা মুনির নানা মত, নানা ব্যাখ্যা, রটনাকে কেন্দ্র করে আজ তিনি সারা বিশ্বের কাছে এক পরিচিত নাম, খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক প্রভু যিশু। এই যে ক্রিসমাসকে ঘিরে এত কল্পনা, আবেগ, নানান ব্যাখ্যা, রটনা, সব কিছুর পাশাপাশি যিশুকে নিয়ে অনেক কৌতূহলি ঘটনাও একে একে উঠে এসেছে। এরকমও কথিত আছে যে, মেরি ম্যাগদলিন নামে যিশুর এক শিষ্যা ছিলেন। তিনি নাকি যিশুর ক্রুশবিদ্ধের সময় তাঁর পায়ের কাছে ছিলেন। যিশুর পুনুরুত্থানের পর সুগন্ধি তেল দিয়ে তাঁর পা-ও ধুয়ে দেন। আর এও শোনা যায় যে, সেই মেরি ম্যাগদলিন যিশুর বিবাহিতা স্ত্রী ছিলেন, যেটা চার্চ অস্বীকার করে। এই ব্যাপারে ড্যান ব্রাউনের ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ বইটি আরও মারাত্মক কথা বলেছে। তাতে লেখা হয়েছে মেরি ম্যাগদলিন যিশুর বিবাহিতা স্ত্রী ছিলেন এবং যিশু ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি নাকি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। যিশুর পুনরুত্থানের পর ফরাসি দেশে ওই মহিলাকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে তিনি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। আবার যিশুর ভারত ভ্রমণের উল্লেখ পাওয়া যায় ‘দ্য আন্নোন লাইফ অব জেসাস’ বইটিতে। তিনি সিন্ধু প্রদেশ থেকে ওড়িশায় আসেন, যান পুরীতেও। রাজগৃহ, বারাণসীতেও যিশুর পদধূলি পড়েছে। খ্রিস্ট ধর্মের ওপর বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের প্রভাব লক্ষণীয়। যেমন চার্চের প্রার্থনায় জোড়হাতের ভঙ্গী ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। আবার খ্রিস্টধর্মে যোগ দিতে গেলে জর্ডন নদীতে দাঁড় করিয়ে তার মাথায় জল ঢেলে তাকে নবজন্ম দেওয়া হত। এই ব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের আচার-অনুষ্ঠানের সাযুস্যও লক্ষণীয়।

যাই হোক, আমাদের শহরের সবচেয়ে মনোহর ঋতু হ’ল শীত। বাকি সময়টা তো রোদ, গরম, আর বৃষ্টি-কাদার সম্রাজ্য। তারই মধ্যে কয়েকটা দিন স্বস্তি এনে দেয় শীতকাল। আর এই শীতের কলকাতায় হরেক রকম মজা ও উৎসবের মেজাজকে এক অন্যমাত্রায় এনে দেয় বড়দিনের উৎসব। আর তার পিছু পিছু আসা ইংরেজি নতুন বছরের উদযাপন।