সম্পাদকীয়

Bengali Identity Crisis: বাঙালি হতে কে মাথার দিব্যি দিয়েছিল আপনাকে!

দিল্লির বসন্তকুঞ্জে বাঙালি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে! রাজ্যে রাজ্যে বাঙালি নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি সরব হচ্ছে! খুব ভাল কথা!

জয়ন্ত চক্রবর্তী: খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল তার এঁড়ে গরু কিনে– এই প্রবচনটা কী আগে শোনেননি? বেশ তো ছিলেন স্রোতের সঙ্গে গা মিলিয়ে, হঠাৎ বাঙালি অস্মিতা কেন জেগে উঠল? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের হেনস্থা হচ্ছে! বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে! দিল্লির বসন্তকুঞ্জে বাঙালি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে! রাজ্যে রাজ্যে বাঙালি নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি সরব হচ্ছে! খুব ভাল কথা! কিন্তু মশাই, কে আপনাকে মাথার দিব্বি দিয়েছিলো মাছ-ভাত খাওয়া বাঙালি হতে? সেই কবে মহামতি গোখলে বলে একটা লোক বাঙালির চরম সর্বনাশ করে গিয়েছিলেন, তার দায় তো বাঙালিকে আজও বহন করতে হচ্ছে! কে বলেছিল গোখলে বলে লোকটিকে—‘হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো’ কথাটি বলতে! গোখলে বোধহয় তখন জানতেন না একদিন এই বাঙালি সারা ভারতে ব্রাত্য হবে! বিজেপি শাসিত রাজ্য কেন, গোটা ভারত যদি বাঙালির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে তাতে অন্যায়ের কী আছে! বাঙালি কী জানে না যে ট্রেন আসানসোল পেরিয়ে গেলেই বাঙালি পরিচয়টা মুছে ফেলতে হয়। নইলে বিপদ আছে (Bengali Identity Crisis)!

আরও পড়ুন: Today Weather: সপ্তাহান্তে তীব্র বৃষ্টি! কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে জারি সতর্কতা

বেশ করেছে বাঙালিদের আক্রমণ করে, খুব ভাল করেছে এবং করছে। বাঙালির রবীন্দ্রনাত্ব আছে, আমাদের আছে কী! ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা আর পাঞ্জাবের যা অবদান তার সিকিভাগও আছে কি অন্য প্রদেশের! আমাদের রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, সুভাষ, ক্ষুদিরাম আরও কত কে আছেন, ওদের কে আছে? বাঙালিকে নির্মূল করার চেষ্টা হবে নাতো কী হবে! বিজয় বোস তো বেশ ছিল বিজয় ভোস হয়ে! কুঁজোর আবার চিত হয়ে জল খাওয়ার সাধ হল কেন? বাঙালির বিরুদ্ধে সারা ভারতের গর্জনটা কি স্বাভাবিক নয়? এতে এত গেল গেল করার কী আছে! ওদের কী একটা সত্যজিৎ রায় আছে? নাকি একটা চুনী-পিকে আছে? সৌরভ গাঙ্গুলির মতো ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে লর্ডস-এর ব্যালকনিতে জার্সি খুলে ওড়ানোর মতো একজনকেও দেখাক তো! ঠগ বাছতে তো গাঁ উজাড় হয়ে যাবে! জ্যোতি বসু নাকি বাঙালি বলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি (Bengali Identity Crisis)!

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/

আজকাল মমতা বন্দোপাধ্যায় নামে এক মহিলা বড় বেশি বাঙালি বাঙালি করছেন! বাঙালিকে কোণঠাসা করার সময় এর থেকে ভাল আর কী হতে পারে! মাছ-ভাত খাওয়া বাঙালির পিছনে লাগো! তাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রমণ করো। বাংলাদেশি বলে তকমা এঁটে দাও। অ্যায়সা মওকা ফির কভি না মিলেগা! অতএব চালাও আক্রমণ! বাঙালি যে আজ শতধাবিভক্ত। ‘যত মত তত পথ’ এর আদর্শে বিশ্বাসী। বঙ্গভূমে আজ চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা হচ্ছে যে, বাঙালি হলে আবেদন করার প্রয়োজনীয়তা নেই! পাড়ায় পাড়ায় আজ বাঙালি কালচার বিলুপ্তির পথে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালির ভাঁটা চলছে। তাই এই সময়টাতেই বাঙালিকে মারো! অ্যায়সা মওকা ফির কভি না মিলেগা! এই পর্যন্ত পড়ে কেউ যদি ভাবেন যে এই কলমচি উগ্র প্রাদেশিকতা বোধে ভুগছেন তা তিনি ভাবতেই পারেন। কিন্তু আর কতদিন! আর কতদিন রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি! মানুষ হওয়ার সাধনাটা এবার শুরু হোক (Bengali Identity Crisis)!

Related Articles