গাড়ির চাকা না ঘুরলে চলবে না পেট, সংসার চালাতে টোটো চালিয়ে রোজগার স্নাতকোত্তর ছাত্রীর
A post graduate student earns money by doing totos to support the family and stomach if the wheels of the car do not turn

The Truth Of Bengal, হুগলি, রাকেশ চক্রবর্তী : গ্রিক মতে তাদের দেবতা এটলাস, যিনি বহন করে আসছেন গোটা পৃথিবীর ভার সেই ভার কিছুক্ষণের জন্য হাতে তুলে নিয়েছিলেন গ্রিকের সব থেকে শক্তিশালী রাজা হারকিউলিস। তবে এসবের থেকে হুগলির ভদ্রেশ্বর অনেক দূরে। দুই বলবান পুরুষের উদাহরণ নারী দিবসে দেওয়ার কারণ তারা যেভাবে বহন করেছিলেন ভুবনের ভার ঠিক সেভাবেই ২৩ বছরের একটি মেয়ে বহন করে আসছে তার নিজের ভুবনের ভার।
হুগলির ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা তমা দত্ত। বর্তমানে তমা কলকাতা ইউনিভার্সিটির বাংলা স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তাকে অনেক ছোট বয়স থেকেই। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে তমা, সংসারের হাল সামলাতে তাকে শুরু করতে হয় টোটো চালানো। বাড়িতে রয়েছেন তার বৃদ্ধ মা বাবা ও দুই ভাই বোন যারা পড়ছে এখন স্কুলে। তমার উপরে ভরসা করেই বেঁচে রয়েছে তার পরিবার।
প্রতিদিন সকালে ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লাস করে বাড়ি ফিরেই শুরু হয় তার অন্য লড়াই। হয়তো তমার ইউনিভার্সিটির খুব কাছের বন্ধু ও জানে না তার এই লড়াই সম্পর্কে। ক্লাস করে বাড়ি ফিরেই শুরু হয় তার অন্য কাজ। গলায় ঝুলানো ছোট্ট ব্যাগ, হাতে চাবির থোকা। টোটো মুছে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে শুরু হয় যাত্রী বহন করার পালা। রাত আটটা থেকে বারোটা সাড়ে বারোটা শেষ ট্রেনের যাত্রীদেরও সঙ্গী থাকেন তমা। কোনদিন ৩০০ কোনদিন ৪০০ খুব কপাল ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও আয় হয় কোনো কোনো দিন। একদিন একটু বেশি আয় হলে পরের দিন একটু বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ মেলে। ভদ্রেশ্বর স্টেশন থেকে যাত্রীদের নিয়ে টোটো করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে তমা।
জীবনের কঠিন লড়াই কিভাবে চালিয়ে আসছে তমা সে বিষয়ে বলতে গিয়ে তমা জানায়, ক্লাস টুয়েলভ থেকে শুরু হয়েছে তার টোটো চালানো। টোটো চালিয়ে ও কখনো বন্ধ করেনি তার পড়াশোনা। শ্রীরামপুর কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স পাস করে এখন সে ভর্তি হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তরের জন্য। বাড়ির বৃদ্ধ মা-বাবার সংসার চালানো থেকে ভাই-বোনদের পড়াশোনা সবকিছুরই দায়িত্ব রয়েছে তমার কাঁধে। ইচ্ছে না থাকলেও তাকে প্রতিদিন টোটো নিয়ে বেরোতে হবেই। কারণ তার গাড়ির চাকা না ঘুরলে সংসারের ভাত রান্না হবে না।
এ বিষয়ে তমার মা ও বাবা তারা জানান, তাদের মেয়ে যদি না থাকতো তাহলে হয়তো আজ তাদের পথে বসে থাকতে হতো। মেয়ের উপর ভরসা করে চলে তাদের সংসার। বাড়ি ভাড়া দেওয়া থেকে ভাই বোনের পড়াশোনা সবকিছুর দায়িত্বই তার মেয়ের কাঁধে।
সহস্র প্রতিকূলতার মধ্যেও তমা বন্ধ করেনি তার পড়াশোনা। দিনের বেলা কলেজ করে রাতের বেলা টোটো চালিয়ে ধরে রেখেছে সংসারের হাল। ঠিক যেভাবে বলবান গ্রীক দেবতা এটলাস হাঁটু গেড়ে বহন করে আসছে পৃথিবীর ভার সেভাবেই নিজের ভুবনকে নিজের কাঁধে তুলে বহন করে আসছেন বছর তেইশের লড়াকু মেয়ে তমা দত্ত। আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে সহস্র কুর্নিশ তমার মতন মেয়েকে।
FREE ACCESS






