বন্যপ্রাণ পুনর্বাসন ও সংরক্ষণের জন্য দেশে প্রথম তৈরি হল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ‘বনতারা’
Wildlife Rescue Center

The Truth of Bengal: ভারতে এই প্রথম বার দেশ-বিদেশের পশুদের জন্য রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এক দুর্দান্ত উদ্যোগ ‘বনতারা’। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, তাদের যত্ন নেওয়া, বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করে এনে শুশ্রুষা করা এবং বৃহৎ অর্থে বন্যপ্রাণ পুনর্বাসন ও সংরক্ষণের জন্য দেশে প্রথম তৈরি হল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ‘বনতারা’। সারা পৃথিবীতে এই ধরনের প্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র আছে কি না, তা খুঁজে দেখার বিষয়। নেপথ্যে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা অনন্ত আম্বানি। অনন্ত আম্বানির কথায়, ‘ছোটবেলা থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে আমার আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে আমি ওই লক্ষ্যে তা শুরু করি। আমরা চাই, গোটা দেশের লুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতিকে এক বৃত্তে এনে তাদের বাঁচিয়ে রাখা।’ তিন হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজের সমারোহ। গুজরাটের জামনগরে ‘বনতারা’ এখন পরিবেশবিদ ও প্রাণী–গবেষকদের এক ঠিকানা। এখানে রয়েছে উদ্ধার করা প্রায় ২০০ হাতি।
এছাড়াও হাজারের ওপরে অন্যান্য প্রাণী, পাখি এবং সরীসৃপ। প্রাণীগুলি কোনও কোনও ঘটনায় আহত হয়েছিল। তাদের আনা হয়েছে এই কেন্দ্রে। এছাড়াও গন্ডার, চিতা ও কুমিরের নির্ভয় বাসযোগ্য স্থান এই ভূখণ্ড। জানা গেছে, বন্যপ্রাণীদের নিজস্ব জগৎ গড়ে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে পুল, বড় জলাশয় এবং প্রতিটি প্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা। ১৫টি রান্নাঘর রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১ টনেরও বেশি খাবার তৈরি হয়। ৬৮০ কেজি খিচুড়ি, সাড়ে ৩০০ কেজি লাড্ডু, পশু ও পাখিদের জন্য এক টনের কাছাকাছি ফল এবং দেড় টন শাকসবজি প্রয়োজন হয়। এখানে হাতির জন্য তৈরি হয়েছে ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি হাসপাতাল।
পশু–পাখিদের চিকিৎসার জন্য আধুনিক সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন ছানি, বাত, কিডনি, টিউমারের চিকিৎসা। এছাড়াও গরম তেল মালিশ করে মনমেজাজ ভাল রাখার থেরাপি ইউনিটও রয়েছে। হাসপাতালে নেই, এমন কোনও বিভাগ নেই। যেমন এক্স–রে মেশিন, লেজার ডিভাইস, ওষুধপত্রের জন্য ফার্মাসি, ওজন মাপার ক্রেন ও অপারেশনের জন্য আলাদা থিয়েটার। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারের বেশি কুমির, সাড়ে ৩০০ হাতি ও ১ হাজার ২০০টির বেশি সরীসৃপ উদ্ধার করে ‘বনতারা’য় রাখা হয়েছে। স্লোভাকিয়া, মেক্সিকো থেকেও আহত প্রাণীদের নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি পশু–পাখিদের ওপর গবেষণা ও মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য দেশ–বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে এসে কাজ করছে।


