
সুপ্রতিক সাউ: কথিত আছে টলটলে জল নাকি সম্মোহন করত মানুষকে। সেই সম্মোহনে অনেকেই নাকি ঝাঁপ দিয়েছিলেন জলে। যারা মারা যেতেন তাঁদের অশরীরী আত্মা নাকি এখনও ঘুরে বেড়ায়। দিল্লির অগ্রসেন কি বাওলি নিয়ে আছে এমনই নানা মিথ। গা ছমছমে পরিবেশ। মাঝে মাঝে পায়রার ডানার শব্দ ভেঙে দেয় নৈশব্দ। সূর্যাস্তের পর প্রবেশ নিষিদ্ধ সেই জায়গা দেখার টানে আসেন দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক।
গা ছমছমে পরিবেশ। মাঝে মাঝে পায়রার ডানার শব্দ ভেঙে দেয় নৈশব্দ। যাওয়ার আগে যদি এই জায়গার ইতিহাস সম্পর্কে জেনে যান, তা হলে ভুতুড়ে পরিবেশে একটু হলেও অবশ্যই ভয় পাবেন। দিল্লির কনট প্লেসের কাছেই আছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী এক ধাপকুয়ো বা সিঁড়ি বিশিষ্ট কুয়ো। মোট ১০৮ ধাপবিশিষ্ট এই স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক রাজা অগ্রসেন বা উগ্রসেনের নাম। কুয়োটির নাম অগ্রসেন কি বাওলি। কথিত আছে, এই বাওলির টলটলে জল নাকি সম্মোহন করত সাধারণ মানুষকে। সেই সম্মোহনে অনেকেই নাকি ঝাঁপ দিয়েছেন এর জলে। যারা মারা যেতেন তাঁদের অশরীরী আত্মা নাকি এখনও ঘুরে বেড়ায় এই বাওলির প্রতি কোণায়।
এই জায়গাটি আমির খানের পিকে সিনেমায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয়েছিল। তারপর থেকে অগ্রসেন কি বাওলি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে পর্যটকদের। দেশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও এখানে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ সিঁড়িতে বসে সময় কাটিয়ে বিমোহিত হয়ে যান। ফিরে যান রাজা অগ্রসেনের আমলে।
‘বাওলি’ কথার অর্থ ধাপকুয়ো। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, প্রজাদের জলের কষ্ট দূর করতে মহারাজা অগ্রসেন এই ১০৮ ধাপ বিশিষ্ট কুয়োটি তৈরি করেন। ঋতু অনুযায়ী ওঠানাম করত জলস্তর। সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে নেমে জল তুলে আনা হতো সেই জল। স্থাপত্য দেখে মনে হয়, মধ্যযুগে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে আবার নতুন করে জায়গাটি তৈরি করেন তুঘলক শাসকরা। ধাপে ধাপে যত নীচে নামবেন, ততই বাড়তে থাকে গা ছমছমে পরিবেশ। অতীতের সেই ধাপকুয়ো এখন ভৌতিক জায়গার নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দিল্লিতে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপত্য আছে। আছে রহস্যময় অনেক স্থানও। সেই রহস্যময় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হল অগ্রসেন কি বাউলি। সিঁড়ি দিয়ে যত নীচে নামবেন, ততই আপনি বাইরের জগৎ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হতে থাকবেন। একেবারে নীচে নেমে গেলে পাবেন না বাইরের কোনও শব্দ। এই প্রাচীন ধাপকুয়ো আজ অনেক পর্যটকের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রে। সারাদিন জায়গাটি খোলা থাকে না। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সূর্যাস্তের পরে এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
Free Access






