
The Truth of Bengal, Mou Basu: এককথায় বলাই যায়, “দুয়ারে মহাকাশ”। ভারতীয়দের দোরগোড়ায় একেবারে বলা ভালো হাতের মুঠোয় চলে আসছে চাঁদ, তারা, গ্রহ, নক্ষত্র। সদ্যই ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোর মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছে গিয়ে নজির গড়েছে ভারত। চাঁদ ছাড়িয়ে সূর্যের নানান রহস্য উন্মোচনে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে ভারতীয় মহাকাশযান আদিত্য-এল১। মহাকাশে নভশ্চর পাঠানোর লক্ষ্যে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। সেই অভিযানের নাম গগনযান। এমনকী, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে নভশ্চর পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে যৌথভাবে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা আর ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো। সব ঠিকঠাক থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নয় পরের বছরই মহাকাশে বেড়াতে যেতে পারবেন ভারতীয়রা। তাও আবার দেশের মাটি থেকেই।মার্কিন সংস্থা SpaceVIP নামক সংস্থা আগামী মাসেই ভারতে তাদের শাখা খুলবে। ভারতের মাটিতে তাদের পরিষেবা দেওয়া শুরু করবে এই আমেরিকান সংস্থাটি। জন সাধারণের সঙ্গে মহাকাশের সংযোগ স্থাপন করাই এই সংস্থার লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে সংস্থার সদর দফতর। এটিই একমাত্র সংস্থা যারা তাদের ক্লায়েন্টদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) নিয়ে যেতে পারে।মহাকাশে যেতে টিকিট বাবদ জনপিছু খরচ পড়বে ৫ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় করলেই আপনি SpaceVIP সংস্থার প্রাইভেট স্পেস মিশনের অংশ হয়ে দিব্যিই আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে ঘুরে আসতে পারবেন। আগামী মাসেই এদেশেও লাক্সারি পরিষেবা চালু করতে চলেছে মার্কিন সংস্থাটি। জিরো গ্রাভিটি প্লেনের মধ্যে থাকবে চাঁদ, মঙ্গল আর জিরো গ্রাভিটি স্টিমিউলেটর। এছাড়াও থাকবে স্পেস বেলুন। চাঁদ, মঙ্গল বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে ভরশূন্য অবস্থায় অভিজ্ঞতা লাভ করার সুযোগ পাবেন।
বিলাসবহুল থাকার জায়গা, দেশ-বিদেশের নানান লোভনীয় খাবারের সম্ভার থাকবে। চোখের সামনে পৃথিবী ও সৌর জগৎকে দেখার সুযোগ মিলবে। আপাতত ভারতের কোটিপতিদের জন্য এই সুযোগ মিললেও অদূর ভবিষ্যতে আম ভারতীয়রাও মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
কারণ, ভারতে ক্রমশ স্পেস ট্রাভেল ট্যুরিজম বা মহাকাশ পর্যটনের সুযোগ বাড়ছে। মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতীয় বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও এর এক অন্যতম বড়ো কারণ। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতীয়দের নতুন নতুন উদ্ভাবন শক্তিও।যে আমেরিকান সংস্থা SpaceVIP ভারতের মাটিতে আগামী মাসে তাদের শাখা খুলবে তারাও ভারতের মাটিকে পাখির চোখ করেছে। কারণ, মহাকাশ নিয়ে ভারতীয়দের উৎসাহ আর ভারতে ক্রমবর্ধমান লাখপতি ও কোটিপতি ব্যক্তিদের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় সরকারও চাইছে স্পেস ট্রাভেলে বেশি সংখ্যক বেসরকারি সংস্থা যোগ দিক। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় স্পেস ইন্ডাস্ট্রির বাজার দাঁড়াতে পারে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যে।
তাই হিল্লিদিল্লি তো অনেক ঘুরলেন এবার নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে অপার রহস্যেঘেরা মহাকাশই না হয় হোক আপনার গন্তব্য।






