রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি নয়? অগ্নিমিত্রার বিকল্প পরিকল্পনায় তৈরি ৫০টি ঘাট
কলকাতায় মোট ৫০টি বিকল্প ঘাট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী
Truth of Bengal: রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। পরিবেশ আদালতের নির্দেশের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত বিকল্প ঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দক্ষিণ কলকাতায় মোট ৫০টি বিকল্প ঘাট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “যদি অনুমতি না পাই, তবে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হবে না। পরিবেশ আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে তো যেতে পারব না। তাই ৫০টা ঘাট দক্ষিণ কলকাতায় তৈরি থাকছে।” উল্লেখ্য, পুজোর আগে কলকাতার রাস্তা সৌন্দর্যায়নে গাঢ় রং ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি মোটরবাইক দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সেই রং সরিয়ে দিতে হয়েছিল। এবার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা ঘিরেও নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন পুরমন্ত্রী।
২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশের পর থেকেই রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালে এই দুই সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু সেখানেও অনুমতি মেলেনি। ফলে আদালতের নির্দেশ মেনে উৎসব বন্ধ রাখতে হয়। তবে বুধবার গঙ্গার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনের পর পুরমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার আর সেই পরিস্থিতি হতে দেবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থে এ বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
পুরমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই আপত্তি জানাতে শুরু করেন পরিবেশবিদ ও আইনজীবীদের একাংশ। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত, মোহিত রায় এবং সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ-সহ একাধিক ব্যক্তি আদালতের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি না দেওয়ার আবেদন জানান কেএমডিএ-র কাছে। তাঁদের বক্তব্য, দক্ষিণ কলকাতার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলাশয়ে কোনওভাবেই উৎসবের কারণে দূষণ বা পরিবেশের ক্ষতি হতে দেওয়া উচিত নয়। শুধু পরিবেশবিদরাই নন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিষয়টি তুলে ধরে নবান্নের কাছেও বিকল্প ঘাট তৈরির আর্জি জানান ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ। কীভাবে পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক ও পোদ্দারনগরে ছটপুজোর জন্য বিকল্প ঘাট তৈরি করা যায়, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও পুরমন্ত্রীর কাছে পাঠান কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়াররা।
এরপরই বিকল্প ব্যবস্থার দিকে এগোয় পুর দফতর। রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি না মিললে যাতে পুণ্যার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ৫০টি বিকল্প জলাশয় ও ঘাট প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটলেও বিকল্প ঘাটের ব্যবস্থা নিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।






