উৎসবের মরশুমে কেন্দ্রের উপহার! ৭,৮৬৬ কোটি টাকা এল বাংলার ঝুলিতে
উৎসবের আগেই রাজ্যগুলির পকেটে গরম টাকা! ১ লক্ষ ৯ হাজার কোটি টাকা কর বণ্টন করল কেন্দ্র
Truth of Bengal: উৎসবের আবহে দেশজুড়ে আনন্দের মেজাজ। দীপাবলি, দিওয়ালি পার হয়ে সামনেই রয়েছে একাধিক বড় উৎসব। এই উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির আর্থিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে বড়সড় চমক দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই রাজ্যগুলির হাতে করের বড় অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার এক ধাক্কায় রাজ্যগুলির জন্য মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা কর বণ্টন করেছে, যা একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে কত টাকা?
কেন্দ্রের এই কর বণ্টনের তালিকায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া অন্যতম রাজ্য হল পশ্চিমবঙ্গ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল অংকের করের অর্থের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৭,৮৬৬ কোটি টাকা। ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবারই এই বিশাল পরিমাণ অর্থ বাংলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত, প্রতি মাসের ১০ তারিখে করের এই কিস্তি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়। কিন্তু উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির মূলধনী খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খরচ মেটানোর সুবিধার্থে এবার ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ নভেম্বরই অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের আশা ও সমন্বয়ের বার্তা
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের আশা, উৎসবের মরশুমে আগাম অর্থ হাতে আসায় রাজ্যগুলি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর খরচের গতি যেমন বাড়াতে পারবে, তেমনই বাড়তে আর্থিক চাহিদাও সামাল দেওয়া সহজ হবে। তবে শুধু বাংলা নয়, উত্তর প্রদেশ, বিহার-সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিও একইভাবে কেন্দ্রের ওই বরাদ্দ করের টাকা আগাম পাচ্ছে। কেন্দ্র চাইছে, উৎসবের মরশুমে এই টাকা রাজ্য সরকারগুলি উন্নয়ন খাতে খরচ করুক, যাতে অর্থনীতিতে অর্থের প্রভাব এবং খরচের প্রবণতা বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, বঙ্গে আগের তৃণমূল সরকার থাকাকালীন কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ছিল। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা না পাওয়া বা টাকা খরচ নিয়ে গড়িমেসি করার অভিযোগ মাঝেমধ্যেই সামনে আসত। আবার কোনও প্রকল্প কার্যকর করা হলেও কেন্দ্রের শর্ত পূরণ করা হত না বলে পাল্টা অভিযোগ ছিল নবান্নের। যার ফলে সেসব প্রকল্পের টাকা ঠিকমতো না মেলার অভিযোগও ছিল। তবে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথ উদ্যোগে মসৃণভাবে কাজ করছে, যার সুফল এই উৎসবের আবহে বাংলার মানুষ সরাসরি পেতে চলেছে।




