মহাবিপাকে সোনম ওয়াংচুক! লাদাখের স্কুলে ঝুলল প্রশাসনিক তালা, চরমে উত্তেজনা
রাতারাতি বন্ধ লাদাখের ‘ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল’! আতঙ্কে শয়ে শয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবক
Truth of Bengal: দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বারবার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়া বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠানে এবার বড়সড় কোপ! লাদাখের ফিয়াংয়ে অবস্থিত সোনমের স্বপ্নের প্রকল্প ‘ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল’-এর সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল স্থানীয় প্রশাসন। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে বিচারাধীন জমি সংক্রান্ত বিতর্কিত মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এই স্কুলের যাবতীয় পঠনপাঠন ও কাজকর্ম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
কী কারণে বন্ধ নির্দেশ?
প্রশাসনের মূল দাবি, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের চূড়ান্ত এনওসি (NOC) ছাড়াই বেআইনিভাবে এই স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর জেরেই লেহর তহশিলদার দফতর থেকে গত ১ নভেম্বর স্কুলটির কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে একটি কড়া নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসটি পাঠানো হয়েছে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী তথা ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস’ (HIAL)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা গীতাঞ্জলী জে আংমোর নামে।
এই গোটা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এইচআইএএল-কে (HIAL) পূর্ববর্তী বরাদ্দ করা প্রায় ১,০৭৬ কানাল (১৩৪.৫ একর) জমি। প্রশাসনের তরফে আচমকাই সেই জমি বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করা হলে সোনমের সংস্থা জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। বর্তমানে সেই মেগা জমি বিতর্ক মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
অনুমতির আগেই শুরু ক্লাস?
প্রশাসনের জারি করা নোটিসে গত ২২ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গীতাঞ্জলি দেবী লেহ-র ডেপুটি কমিশনারের কাছে স্কুলের প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) চেয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন বা শিক্ষা দফতরের তরফে সেই অনুমতি আসার আগেই তড়িঘড়ি স্কুলে ক্লাস শুরু করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে লাদাখ প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য, যেহেতু জমির অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই ছাড়পত্র ছাড়া সেখানে ক্লাস চালু করা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ। আদালত থেকে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত স্কুলের জমিতে বর্তমান স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোনম ওয়াংচুকের এই বিশ্বখ্যাত স্কুলের দরজায় হঠাৎ তালা পড়ায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতি ও শিক্ষাজগতে।





