কলকাতা

জনগণনার কাজে শিক্ষকরা ব্যস্ত! পিছোতে পারে ২০২৭-এর মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক, কী ভাবছে পর্ষদ?

ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের প্রস্তাব স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

Truth of Bengal: জনগণনার কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করার সম্ভাবনা ঘিরে এবার বদলে যেতে পারে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার দায়িত্ব সামলাতে হলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে তৈরি হতে পারে সমস্যা। সেই আশঙ্কা থেকেই মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট পর্ষদ। ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের প্রস্তাব স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এবার একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও। সংসদ সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ১৬ মার্চের পর শুরু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী নতুন পরীক্ষার রুটিন তৈরির কাজও চলছে।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হতে পারে বলে সম্ভাবনা। এই কাজ ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলার কথা। জনগণনার কাজে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে নিয়োগ করা হলে পরীক্ষার সময় তাঁদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আর সেই কারণেই ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রস্তাবিত নতুন সূচিতে মার্চের প্রথম দিকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ভাষার পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়ে ১৬ মার্চের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। স্কুল শিক্ষা দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পরেই পরীক্ষার দিনক্ষণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাধ্যমিকের সূচি বদলের সম্ভাবনার পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অসিতকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, মাধ্যমিকের প্রস্তাবিত সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৬ মার্চের পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই নতুন রুটিন তৈরির কাজ চলছে। তবে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষক মহলে দেখা দিয়েছে মতভেদ। একাংশের মতে, জনগণনার কাজে যদি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যুক্ত করা হয়, তাহলে পরীক্ষার আয়োজন, নজরদারি এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলাতে সমস্যা হতে পারে। তাই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।অন্যদিকে, কিছু শিক্ষক মনে করছেন, জনগণনার কাজে যাঁরা যুক্ত থাকবেন না, তাঁদের দিয়ে পরীক্ষার দায়িত্ব সামলানো সম্ভব ছিল। তাঁদের প্রশ্ন, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করে কি নির্ধারিত সময়েই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া যেত না? ফলে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার সূচি বদল হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে পর্ষদ ও স্কুল শিক্ষা দফতরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

Related Articles