ডেবরায় চরম উত্তেজনা! থানার ভিতরে দলীয় কর্মীদের হাতেই মার খেলেন বিজেপি বিধায়ক
থানায় বসে আক্রান্ত খোদ বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম, জখম হয়ে ভরতি হাসপাতালে
Truth of Bengal: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা! দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পেয়ে সোজা থানায় ছুটে গিয়েছিলেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক। আর তারপরেই যা ঘটল, তা জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে! অভিযোগ, খোদ থানার ভেতরেই একাংশ কর্মীর হাতে আক্রমণের শিকার হলেন বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি ডেবরা সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডেবরার রাজনৈতিক মহলে এখন চরম উত্তাপ ও শোরগোল শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ডেবরা ব্লক কার্যালয়ের ডুঁয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনের সামনে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মূলত আবাস যোজনা এবং ভিবিজী-রামজি প্রকল্পের ফর্ম তোলা ও জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুটি পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বিবাদ রূপ নেয় হাতাহাতিতে। বালি-পাথর থেকে শুরু করে ব্লক চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দুই পক্ষকে শান্ত করতে ডেবরা থানায় যান খোদ বিধায়ক শুভাশিস ওম। কিন্তু অভিযোগ, থানার অন্দরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বচসা চলাকালীন আচমকাই একপক্ষের লোকজন চড়াও হয় বিধায়কের ওপর। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতির অনুগামীদের দিকে। এই আকস্মিক হামলায় বিধায়ক-সহ মোট ৭ জন জখম হন। পরে পুলিশ ও দলের অন্যান্য কর্মীদের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় বিধায়ককে উদ্ধার করে দ্রুত ডেবরা সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
হাসপাতালে জখম বিধায়ককে দেখতে যান বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস। তিনি বলেন, “আমি পুরো বিষয়টি এখনও জানি না। কোথায় কী তোলাবাজি হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে কিছু জায়গায় দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। দলের কেউ যুক্ত থাকলে খতিয়ে দেখা হবে। তবে এভাবে প্রকাশ্যে দলের বিধায়কের ওপর আক্রমণ মোটেও কাম্য নয়।”
অন্যদিকে, হাসপাতালের বিছানা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিধায়ক শুভাশিস ওম বলেন, “একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। দলের কিছু সৎ কর্মী সেই দুর্নীতি বন্ধ করার প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। সেই নিয়েই মূলত গণ্ডগোলের সূত্রপাত।”
থানার ভেতরে পুলিশের সামনেই একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এহেন হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দলের অন্দরের কোন্দল নাকি অন্য কোনও স্বার্থের সংঘাত, এই ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর জল্পনা।






