উচ্চমাধ্যমিকে ফের বদল? আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উঠে যেতে পারে সেমেস্টার প্রথা!
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার ব্যবস্থা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন
Truth of Bengal: উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফের পরিবর্তন আসতে পারে? আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কি উঠে যাবে সেমেস্টার প্রথা? এই নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার নিয়মে বদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার ব্যবস্থা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বহু শিক্ষকই তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়ুয়ারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “অনেক মাস্টারমশাই আমাদের বলেছেন যে সেমেস্টার সিস্টেমে ছাত্ররা যথাযথ উপকৃত হচ্ছে না। একটা বড় অংশের ধারণা এটাই। আমার ব্যক্তিগত ধারণা একজন শিক্ষক, সেই জায়গা থেকে আমরা বিষয়টাকে পর্যালোচনার পর্যায়ে রাখছি।”
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর থেকেই উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, আগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হত। পরবর্তীকালে পরীক্ষার পরিধি সীমিত হয়ে শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ফের বদল আসে পরীক্ষার কাঠামোয়। চালু করা হয় সেমেস্টার পদ্ধতি। এই ব্যবস্থায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে মোট চারটি সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে হয় পড়ুয়াদের।
তবে এই সেমেস্টার ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন পদ্ধতির কারণে পড়াশোনার ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা নানা সমস্যার মুখে পড়ছে। এমনকি শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না বলে মত তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার প্রথা পুনর্বিবেচনার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই বিকাশ ভবনে আবেদন জমা পড়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।






