মধ্যরাতে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! ৬ ঘণ্টার তাণ্ডবে প্রাণ হারালেন ৫ জন, বিপর্যস্ত ওড়িশা-বাংলাও!
সমুদ্র উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে কমছে ‘অর্ণব’-এর শক্তি! একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দার্জিলিং-সিকিমে
Truth of Bengal: অবশেষে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ল অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া এবং পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে চলে এই ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসাত্মক ‘ল্যান্ডফল’ বা স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩১টিরও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্ধ্রের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গেও এই শক্তিশালী ঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পরপরই উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয় প্রবল তাণ্ডব। একের পর এক বিশাল গাছ উপড়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে শুরু করেছে অর্ণব, এবং বর্তমানে তা অতি তীব্র থেকে সাধারণ তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আইএমডি-র সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বেশ কয়েকটি জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার পরিমাণ ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ সেন্টিমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে উত্তাল সমুদ্রের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও সিকিমেও ভারী বৃষ্টির কারণে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় রেল পরিষেবায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম-কিরান্দুল এবং রাউরকেলা-জগদলপুর রুট সহ মোট ২২টি এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন পুরোপুরি বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। বিখ্যাত হাওড়া-জগদলপুর সমলেশ্বরী এক্সপ্রেসের যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ভুবনেশ্বর-জগদলপুর হীরাখণ্ড এক্সপ্রেসের মতো একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে এনডিআরএফ (NDRF)-এর আইজি নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কারণে সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে একাধিক উদ্ধারকারী দল নামানো হয়েছে। অন্যদিকে ওড়িশায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাত হলেও এখনও পর্যন্ত বড় কোনও বিপর্যয়ের খবর মেলেনি। তবে পরিস্থিতি ওপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দল।






