রাজ্যের খবর

‘অভয়ার অপরাধীদেরও এমন পরিণতি হোক’, গাইঘাটার ঘটনার পর বিস্ফোরক মন্তব্য রত্না দেবনাথের

তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ের অপরাধীদেরও একই পরিণতি হওয়া উচিত

Truth of Bengal: ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’—দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে এমনই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা বারবার তুলে ধরেছে বিজেপি সরকার। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ সামনে এলেই দ্রুত গ্রেপ্তারি, আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযুক্তের মৃত্যু—এমন ঘটনা ঘিরে এবার নতুন করে বিতর্ক। বারুইপুরের পর গাইঘাটাতেও ধর্ষণ-খুনের অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় সরব হলেন আর জি করের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ের অপরাধীদেরও একই পরিণতি হওয়া উচিত।২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণ ও খুনের শিকার হন এক তরুণী চিকিৎসক। সেই ঘটনার তদন্তে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে তদন্ত নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের অসন্তোষের জেরে মামলাটি ফের খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। বর্তমানে সিবিআই পুনর্তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে।

মেয়ের নৃশংস মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন রত্না দেবনাথ। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক হন তিনি। মঙ্গলবার গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনের অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই তাঁর প্রতিক্রিয়া, “আগেকার সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকার বিচারের রাস্তা তৈরি করছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।” এর আগে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর সময় অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি রত্নাদেবী। বরং ওই নির্যাতিতার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের মেয়ের সামাজিক অবস্থানের তুলনা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও কঠোর অবস্থান।

ধর্ষণের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি একদিকে যেমন রয়েছে, তেমনই এনকাউন্টার ঘিরে আইন ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভয়ার মা কি বিচারপ্রক্রিয়ার উপর আস্থা হারিয়ে এমন অবস্থান নিচ্ছেন? নাকি অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে তাঁর এই বক্তব্য? গাইঘাটার ঘটনার পর সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

Related Articles